Agaricus

রেস্টুরেন্টে স্যুপ খেতে গিয়ে মেন্যুতে “মাশরুম স্যুপ” নামটা চোখে পড়ল রিনির। স্যুপ টেবিলে আসতেই সে অবাক হয়ে বলল “আরে এটাতো ব্যাঙের ছাতার মতন!”।

আসলে আমরা বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে বা গাছের গুঁড়িতে ছোটো ছোটো মাশরুম দেখতে পাই। যেগুলো দেখতে অনেকটা ছাতার মতন। আকারে ছোটো হওয়াতে বড়রা আমাদের বলতেন এটা ব্যাঙের ছাতা। বৃষ্টির সময় ব্যাঙ এখানে এসে বসে।

এসো আজকে জেনে নিই এমন একটা মাশরুমের কথা যেটা খুবই পরিচিত এবং সুস্বাদুও। সেটি হচ্ছে Agaricus

Agaricus এর চেহারা মনে রাখতে পারি এই ছবি দিয়েই।

একটা সাধারণ ছাতার সাথে তুলনা করে যদি দেখি তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ায় এরকম,
ছাতার ছড়ানো অংশ= পাইলিয়াস
ছাতার হাতল= স্টাইপ

আবার এই পাইলিয়াসের মধ্যে কিছু অংশ রয়েছে। ছাতা খুললে যেমন ভেতরের দিকে আমরা কিছু শিকের মতন অংশ দেখতে পাই, ঠিক তেমনি গিল নামক একটা অংশ পাওয়া যায়। পাইলিয়াসের ঠিক নিচে অসংখ্য গিল থাকে। স্টাইপের মাথা থেকে পাইলিয়াসের একদম শেষ প্রান্ত পর্যন্ত গিল ছড়ানো থাকে। নিচের চিত্র দেখলে আশা করি বুঝতে পারবে আরও সুন্দর করে।

পাইলিয়াস আর স্টাইপ নিয়ে যে অংশটা আমরা দেখি সেটা কিন্তু Agaricus এর দেহের অংশ না। সেটি ফ্রুটবডি। আসল দেহটি মাটির নিচে সুতার মতন চারপাশে বিস্তৃত থাকে। অনেক সময় অনেকগুলো ছত্রাকের মাটির নিচের দেহ মিলে একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে। নেটওয়ার্কটিকে মাইসেলিয়াম বলে। আর স্টাইপ এবং পাইলিয়াসের মাঝে যেই অংশটি দেখতে পাই তাকে বলে অ্যানুলাস। এটি দেখতে অনেকটা মুকুটের মতন এবং ভঙ্গুর ধরণের।
তার মানে তাহলে ছত্রাকের সব অংশ গুলো যদি চিহ্নিত করি তাহলে চিত্রটি হবে ঠিক এরকম,

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো।

এখন তোমাদের কে গিল নিয়ে মজার একটা তথ্য দেই। যতই সূক্ষ্ম সুতার মতন দেখাক না কেন এই গিল থেকেই কিন্তু তৈরি হয় স্পোর। গিলের একটা ছোটো অংশ কেটে নিলে স্পোর তৈরির অংশটা দেখতে পাব ঠিক নিচের চিত্রের মতন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এখানে আসলে কী কী রয়েছে এবং কীভাবে স্পোর তৈরি হয়?
ছত্রাকের গিল গুলো একটি ডায়াগ্রামের মাধ্যমে যদি দেখি তাহলে এটি হবে এরকম


হাইমেনিয়ামের অংশ


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


তাহলে পুরো ব্যাপারটি দাঁড়াল উপরের চিত্রটির মতন। বর্ণনার সাথে দেখো তো মিলছে কি না!
এখন কিছু অনুশীলনী করে দেখো তো কতটুকু বুঝলে! তার আগে একটা ছোট্টো জিনিস মনে রাখতে হবে। ব্যাসিডিওমাইকোটা ফাইলামের ছত্রাকের ফ্রুটবডিকে বলা হয় ব্যাসিডিওকার্প। আর ব্যাসিডিওস্পোর নামটা কেন বলছি জানো? কারণ Agaricus হচ্ছে এই ফাইলামের অন্তর্ভুক্ত।



সঠিক উত্তরে ক্লিক করো



অনেক তো ছত্রাক নিয়ে জানলাম, এখন বলো তো সব মাশরুম কি খাওয়া যায়? অবশ্যই না! মাশরুম বিষাক্তও হতে পারে। বিষাক্ত মাশরুম চেনার উপায়:

মোবাইল স্ক্রিনের ডানে ও বামে swipe করে ব্যবহার করো এই স্মার্টবুকটি। পুরো স্ক্রিন জুড়ে দেখার জন্য স্লাইডের নিচে পাবে আলাদা একটি বাটন।


সত্য মিথ্যা যাচাই করো





সঠিক উত্তরে ক্লিক করো



এতক্ষণ তো আমরা ছত্রাক সম্পর্কে জানলাম, এখন বলো তো লাইকেনের নাম কী শুনেছ?
লাইকেন সম্পর্কে যদি না জানো তাহলে একটা ঘটনা কল্পনা করা যাক।

ধর, তুমি এবং তোমার বন্ধুরা মিলে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছ। তুমি বললে যে তোমার বাসার ছাদে অনুষ্ঠান করা যাবে। কিন্তু তুমি খুব মজাদার রান্না করতে পারো না। অথচ তোমার আরেকটি বন্ধু সুন্দর রান্না করতে পারে। অনুষ্ঠানে খাবার আনার দায়িত্ব পড়ল সেই বন্ধুর ওপর। তাহলে এই পুরো ঘটনাটায় জায়গা জোগাড় করে দিচ্ছ তুমি এবং তোমার বন্ধু খাবার জোগাড় করে দিচ্ছে। লাইকেন বিষয়টিও এরকম।

এখন ঝটপট করে লাইকেনের গঠনটা দেখে নেওয়া যাক।

লাইকেনকে যদি প্রস্থচ্ছেদ করি তাহলে এরকম একটা গঠন দেখা যাবে।


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


বলো তো এখানে হস্টোরিয়াম কোনটি?


এখানে A হচ্ছে একটি হাইফার অংশ। B হচ্ছে হস্টোরিয়াম যা অন্য একটি কোষের ভেতর ঢুকে গিয়েছে। C হচ্ছে হাইফার মেমব্রেন অংশ। D হচ্ছে উদ্ভিদ কোষ। আশা করি চিত্রটি বুঝতে পেরেছ।


মিথোজীবিতা না পরজীবিতা?


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


লাইকেনের শ্রেনিবিভাগ


ক) বাসস্থানের উপর ভিত্তি করে: লাইকেন কোথায় জন্মাচ্ছে তার উপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।

নাম বাসস্থান
কর্টিকোলাস গাছের বাকল বা কান্ডের উপর জন্মায়
টেরিকোলাস আর্দ্র অঞ্চলে এবং মাটিতে জন্মায়
স্যাক্সিকোলাস পাথরের উপর জন্মায়। শীতপ্রধান এলাকায় দেখা যায়
লিগিনিকোলাস ভেজা কাঠের উপর জন্মে
ওমনিকোলাস চামড়া, কাচ, হাড় ইত্যাদির উপর জন্মে
ফোলিকোলাস ফার্ন বা সপুষ্পক উদ্ভিদের পাতায় জন্মে

লাইকেনের গঠন নিয়ে ঘাঁটতে গেলেই এরকম একটি ছবি তোমাদের চোখে পড়বে।


ছবি থেকেই স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে কোন ধরণের লাইকেনের গঠন কেমন।

খ) গঠনের উপর ভিত্তি করে: লাইকেনের আকার আকৃতির উপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। বিজ্ঞানী Hawrsworth এবং Hill পাঁচ ভাগে বিভক্ত করেন।

নাম গঠন
লেপ্রোজ অল্প কিছু শৈবাল থাকে। সম্পূর্ণ শৈবাল স্তরকে ঢেকে রাখে না। সরল ধরণের থ্যালাস।
ক্রাসটোজ চ্যাপ্টা ধরণের। অবলম্বনের গায়ে লেপ্টে থাকে।
ফোলিয়েজ দেখতে অনেকটা রিকশিয়ার মতন। কিনারায় খাঁজকাটা থাকে।
ফ্রুটিকোজ পরগাছার মতন অবলম্বন থেকে ঝুলে থাকে। শাখা প্রশাখা দেখা যায়।
সূত্রাকার অল্প কিছু হাইফা দিয়ে শৈবাল ঢাকা থাকে।

গ) ছত্রাকের উপর ভিত্তি করে: লাইকেন গঠনকারী ছত্রাকের উপর ভিত্তি করে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।

নাম ছত্রাক
অ্যাসকোলাইকেন অ্যাসকোমাইকোটা ধরণের ছত্রাক
ব্যাসিডিওলাইকেন ব্যাসিডিওমাইকোটা ধরণের ছত্রাক

কোনটি কোন ধরণের লাইকেনের গঠন তা মিলিয়ে দেখাও


সত্য মিথ্যা যাচাই করো









মাইক্রোস্কোপের নিচে লাইকেনের প্রস্থচ্ছেদ রাখলে ঠিক এরকম দেখায়। এখন ছবিটি দেখে ঝটপট কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলো তো!

সঠিক উত্তরে ক্লিক করো


তাহলে এখন নিশ্চয়ই মাশরুম স্যুপ খেতে গেলে রিনির মতন তুমি অবাক হবে না! উলটো স্যুপ খেতে খেতে অন্যদেরকে মাশরুম আর লাইকেন দুটো সম্পর্কেই বলতে পারবে। আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা Agaricus সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।