এইচএসসি জীববিজ্ঞান ১ম পত্র

ছত্রাক (বৈশিষ্ট‍্য, গঠন, জনন)

ছোটবেলা থেকে যে ব্যাঙের ছাতার কথা শুনে আসছি সেটাতে আসলেই কী ব্যাঙ থাকে? ব্যাঙ থাকুক বা না থাকুক সেই ব্যাঙের ছাতাগুলো কিন্তু আসলে বিজ্ঞানের ভাষায় ছত্রাক বা ইংরেজিতে বলে Fungi। অনেক সময় অনেকে বলে যে ফাংগাস জন্ম নিচ্ছে। এই ফাংগাস বলতে কিন্তু ছত্রাককেই বোঝায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার এটা যে, যেই অংশটাকে আমরা ব্যাঙের ছাতা বলি সেটা কিন্তু ছত্রাকের দেহ নয়। তাহলে ছত্রাক কোনটা? চল ছত্রাকের কিছু বৈশিষ্ট্য জেনে নিই।

ছত্রাকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য-

১। অসবুজ, যেহেতু ক্লোরোপ্লাস্ট নেই
২। সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে না তাই পরভোজী
৩। মৃতজীবী বা পরজীবী বা মিথোজীবী
৪। সুকেন্দ্রিক
৫। কোষপ্রাচীর কাইটিন দ্বারা তৈরি
৬। কোনো ভাস্কুলার টিস্যু নেই
৭। জননাঙ্গ এককোষী
৮। হ্যাপ্লয়েড স্পোর তৈরি করে
৯। জাইগোটে মায়োসিস কোষ বিভাজন হয়
১০। খাবার গ্রহণের পদ্ধতি হল শোষণ
১১। অভিযোজন ক্ষমতা অনেক বেশি (অনেক অল্প তাপমাত্রায় বা উচ্চ তাপমাত্রায় এরা বেঁচে থাকতে পারে।)

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো-

ফাঞ্জাই বা ছত্রাক যেই কিংডমের অন্তর্ভুক্ত সেটি পাঁচটি ফাইলামে বিভক্ত। পাঁচটি ফাইলামে রয়েছে,

১। Zygomycota
২। Ascomycota
৩। Basidiomycota
৪। Deuteromycota
৫। Mycophycophyta


এতক্ষণ তো জানলে ছত্রাকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে, তাহলে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলো।


ছত্রাকের দেহটা দেখতে কেমন এবার সেটা জেনে নেওয়া যাক।

ছত্রাকের আসল দেহটা সূত্রাকার অর্থাৎ সুতার মতন। অনেকগুলো কোষ নিয়ে গঠিত। কিছু ছত্রাকের দেহ শাখান্বিত এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ছত্রাকের দৈহিক গঠন

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত



ছত্রাকের কোষীয় গঠন



জনন প্রক্রিয়া

অঙ্গজ জনন

যেকোনো ছত্রাকের অঙ্গজ জনন প্রক্রিয়ায় তার মাইসেলিয়াম থেকে নতুন ছত্রাকের উৎপত্তি হয়।
হাইফার কোষগুলো ভেঙে গিয়ে প্রত্যেকটা কোষ নতুন হাইফা তৈরি করতে পারে। আবার অনেক সময় কুঁড়ি বা bud তৈরি হয়। কুঁড়ি তৈরির সময় একটা কোষ থেকে বাড়তি অংশ তৈরি হয়। এরপর নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। দুইটি নিউক্লিয়াসের একটি সেই বাড়তি অংশে প্রবেশ করে এবং নতুন কোষ গঠন করে। এরা স্ক্লেরোশিয়াম নামক একটা শক্ত অংশ গঠন করতে পারে। হাইফাগুলো একসাথে মিলে চারপাশে একটা কালচে শক্ত আবরণ তৈরি করে। সেটাকে বলা হয় স্ক্লেরোশিয়াম।


অযৌন জনন

অযৌন জননে স্বাভাবিকভাবেই কোনো গ্যামেট তৈরি হয় না। তাই কোনো জাইগোটও পাওয়া যায় না। এখন প্রশন হল, তাহলে কীভাবে ছত্রাক বংশ বিস্তার করতে পারে গ্যামেট ছাড়া? ছত্রাকগুলো যখন গ্যামেট তৈরি না করে সরাসরি স্পোর তৈরি করে তখন সেই প্রক্রিয়াকে আমরা বলে থাকি অযৌন জনন।

 

অযৌন জনন প্রক্রিয়া


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


যৌন জনন

গ্যামেটের মিলনের ফলে জাইগোট তৈরির মাধ্যমে নতুন ছত্রাক তৈরি হয় এই প্রক্রিয়ায়। যেই কোষ থেকে গ্যামেট তৈরি হয় তাকে বলা হয় গ্যামেটেঞ্জিয়াম।
পুং গ্যামেট তৈরির কোষকে বলা হয় অ্যান্থেরিডিয়াম আর স্ত্রীর গ্যামেটের ক্ষেত্রে বলা হয় ঊগোনিয়াম।

যৌন জননের তিনটি ধাপ

ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


ছত্রাকের যৌন জনন

“+” চিহ্নিত অংশে ক্লিক কর!

আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা ছত্রাক (বৈশিষ্ট‍্য, গঠন, জনন) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।