অক্সাইডের অম্লত্ব

হাইলাইট করা শব্দগুলোর উপর মাউসের কার্সর ধরতে হবে। মোবাইল ব্যবহারকারীরা শব্দগুলোর উপর স্পর্শ করো-

কার্বন ডাই অক্সাইড এর নাম শুনেনি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ঠিক তেমনি বালি দেখেনি এমন মানুষও খুঁজে বের করা যাবেনা। খুঁজে বের করা যাবেনা পানি সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষকে। মানুষ পান খেতে যেমন চুন ব্যবহার করে, তেমনি অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহার করে লাফিং গ্যাস। এই সবগুলো জিনিসের মধ্যেই একটি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। এরা প্রত্যেকেই কোন না কোন মৌলের অক্সাইড।

অক্সাইডের শ্রেণীবিভাগ

অম্ল-ক্ষার ধর্মের উপর ভিত্তি করে অক্সাইড সাধারণত চার প্রকার-

(১) অম্লীয় অক্সাইড: যারা পানির সাথে বিক্রিয়ায় এসিড তৈরি করে (এসিড এ্যানহাইড্রাইডস) অথবা ক্ষারের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি করে। যেমন: SO₃, NO₂।

(২) ক্ষারীয় অক্সাইড: যারা পানির সাথে বিক্রিয়ায় ক্ষার তৈরি করে (বেস এ্যানহাইড্রাইডস) অথবা এসিডের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি তৈরি করে। যেমন: Na₂O, Li₂O।

(৩) উভধর্মী অক্সাইড: যারা এসিড এবং ক্ষার উভয়ের সাথে বিক্রিয়া করে এবং উভয় ক্ষেত্রে লবণ ও পানি তৈরি করে। যেমন: Al₂O₃।

(৪) নিরপেক্ষ অক্সাইড: অম্লীয় বা ক্ষারীয়, কোন বিক্রিয়ায় দেখায় না। যেমন: CO।


নিচের অক্সাইড এর নামের সাথে উদাহরণ মিল করো-


অম্ল

অম্লের সংজ্ঞায় তিন ধরণের মতবাদ আছে-

এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, লুইস এসিড এবং জারক ইলেকট্রন গ্রহণ করলেও এই দুই ঘটনা একই ব্যাপার নয়। লুইস এসিড ইলেকট্রন গ্রহণ করে সন্নিবেশ সমযোজী যৌগ তৈরি তৈরি করে অন্যদিকে জারক ইলেকট্রন গ্রহণ করে নেগেটিভ আয়নে পরিণত হয়।

একইভাবে লুইস ক্ষার ইলেকট্রন দানের মাধ্যমে সন্নিবেশ বন্ধন গঠন করে যেখানে বিজারক ইলেকট্রন দান করে পজিটিভ আয়নে পরিণত হয়।


এসিডের শক্তিমাত্রার নির্ভরশীলতা

এসিডের তীব্রতা বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যেমন যে এসিডের জলীয় দ্রবণে বিয়োজনের হার যত বেশী, সে এসিড তত শক্তিশালী। কারণ সেই এসিডের জলীয় দ্রবণে প্রোটন দেওয়ার ক্ষমতা বেশী।

অন্যদিকে হাইড্রাসিড (HX) গুলোর ক্ষেত্রে, ঋনাত্মক আয়নের আকার যত বাড়ে, অম্লত্বও তত বাড়তে থাকে। কারণ আকার বাড়ার সাথে সাথে আয়নিকরণ শক্তিতড়িৎ ঋণাত্মকতা কমে যায়, ফলে প্রোটন দানের প্রবণতাও বাড়তে থাকে। তাই এদের অম্লত্বের ক্রম: HI>HBr>HCl।

আবার অক্সোএসিডসমূহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় পরমাণুর ধনাত্বক জারণ সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে অম্লত্বও বাড়তে থাকে। ধনাত্বক জারণ সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ইলেকট্রনের প্রতি আসক্তি ও বাড়তে থাকে, ফলে অম্লত্ব ও বাড়ে। যেমন: HClO₄ > H₂SO₄> HNO₃

এখন, অক্সোএসিডসমূহের কেন্দ্রিয় পরমাণুর ধনাত্মক জারণ সংখ্যা সমান হয়ে গেলে যে পরমাণুর আকার ছোট, তার অম্লত্ব বেশি। কারণ, আকার ছোট হলে চার্জ ঘনত্ব এবং সাথে সাথে ইলেকট্রনের প্রতি আসক্তি বাড়বে এবং ফলশ্রুতিতে, অম্লত্বও বাড়বে।
যেমন: HNO₃ > H₃PO₄।


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো-


ড্রপ ডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-



চলো, এখন পর্যায় সারণীতে অক্সাইডের অম্ল ধর্ম পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয় তা কিভাবে সে সম্পর্কে জেনে নিই। একই পর্যায়ে যতই বাম থেকে ডানে যাওয়া হয়, ততই অক্সাইডের অম্লত্ব বাড়তে থাকে।

অক্সাইডের অম্লত্ব



আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা সাসপেনশন ও কোয়াগুলেশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।