হাইড্রোজেন বন্ধন

H-বন্ধন? এটা কি ধরনের বন্ধন তা বুঝতে আমাদের বেশি কষ্ট করতে হবেনা। প্রথমে ভাবো তোমার পরিবারের মধ্যে তোমরা কতজন সদস্য রয়েছ? ধরো, তোমার বাসায় তোমার বাবা, মা এবং ভাই, বোন সবাই মিলে মোট ৬ জন। তোমরা সবাই একে অপরের সাথে এক অদৃশ্য বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত। ঠিক তেমনি ভাবে, H-বন্ধন একটা অদৃশ্য বন্ধন যা একটি পরমাণুর সাথে অন্য একটি পরমাণু যুক্ত করে। এখন, H-বন্ধন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত নিচে পড়ে নিই।


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত-


H-বন্ধনের শক্তিক্রম হলো H—F > H—O > H—N


H-বন্ধনের বৈশিষ্ট্য-

⇨ স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বলের প্রভাবে H-বন্ধন গঠিত হয়। ⇨ H-বন্ধন দুর্বল প্রকৃতির। H-বন্ধনের বন্ধনশক্তি সর্বোচ্চ 42 kjmol⁻¹, সমযোজী বন্ধনের তুলনায় অনেক কম। ⇨ H-বন্ধনের দিক ধর্ম আছে। ⇨ H-বন্ধনের কারণে সমযোজী যৌগের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রভাবিত হয়। ⇨ পলিমার গঠন ব্যাখ্যায় H-বন্ধন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ⇨ আন্তঃআণবিক H-বন্ধন দ্রবনের ঘনত্ব হ্রাসের সাথে সাথে হ্রাস পায়, কিন্তু অন্তঃআণবিক H-বন্ধন কোন পরিবর্তন হয় না।



H-বন্ধনের প্রকারভেদ-

একটা ভবনের মধ্যে একতলা থকে অন্য তলায় যেতে আমরা সিঁড়ি ব্যবহার করে থাকি। এটিকে আমরা অন্তঃআণবিক H-বন্ধন এর সাথে তুলনা করতে পারি।

আমরা জানি ২ টা পাশাপাশি ভবনের মধ্যে আসা যাওয়ার সুবিধার জন্য অনেক জায়গায় সেতু বন্ধন থাকে। ২ টা ভবনের মাঝে এই সেতু বন্ধন এর সাথে আন্তঃআণবিক H-বন্ধন এর তুলনা করা যায়।


H-বন্ধনের গুরুত্ব-

⇨ প্রাণীদেহের প্রধান উপাদান তরল পানি। আর পানির এ তরল অবস্থার অন্যতম কারণ H-বন্ধন।
প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ইত্যাদি পানির সাথে H-বন্ধন গঠন করে বলে এগুলো পানিতে দ্রবণীয় হয়েও শরীরবৃত্তীয় কাজে অংশ নিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় তাপ উৎপন্ন করে। আর তাপ দ্বারা প্রাণী চলাচল করা সহ অন্যান্য কাজ করে থাকে।
D.N.A, R.N.A ইত্যাদির হ্যালিক্স H-বন্ধনের মাধ্যমে ডাই-হ্যালিক্স ও অন্যান্য জটিল আকৃতি ধারণ করে জৈবিক কাজ সম্পন্ন করে থাকে।
⇨ প্রাণীদেহের চুল, চর্ম, অস্থি, রক্ত ইত্যাদিতে H-বন্ধন আছে।
⇨ উদ্ভিদদেহের উপাদান কার্বোহাইড্রেটের পলিমার সেলুলোজ। আর সেলুলোজে অণু-সমুহে H-বন্ধনের মাধ্যমে আবদ্ধ থাকে।


ছবি গুলো মিল করো-


যৌগের ধর্মের উপর H-বন্ধনের প্রভাব-


নিচের ছবিতে কোনটা কোন ধরণের H-বন্ধন?


বাস্তবে H₂O তরল, কিন্তু H₂S গ্যাস- এর কারণ হলো উভয়ের মধ্যে কেবল H₂O অণুতে H-বন্ধন ঘটে।

এর কারণ পানি অণু (H₂O) হলো পোলার; কিন্তু H₂S হলো অপোলার। এর কারণ, O ও H এর তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য হলো (3.5-2.1) = 1.4, যা সমযোজী পোলার অণু গঠনের শর্ত পূরণ করে। কিন্তু S ও H এর মধ্যে তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য হলো (2.5-2.1) = 0.4, যা অপোলার সমযোজী অণুর শর্ত পূরণ করে। তাই পোলার H₂O অণুর মধ্যে H-বন্ধন গঠন সম্ভব। অপোলার H₂S অণুর মধ্যে H-বন্ধন সম্ভব নয়। H-বন্ধন উপস্থির থাকার ফলে H₂O অণুসমূহ পরস্পরকে আকৃষ্ট করে সংবদ্ধ আকারে রাখে। ফলে H₂O তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়।


সঠিক উত্তরে ক্লিক করো-


আশা করি, এই স্মার্ট বুকটি থেকে তোমরা হাইড্রোজেন বন্ধন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছো। 10 Minute School এর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য শুভকামনা রইলো।