ষষ্ঠ শ্রেণি: বাংলা প্রথম পত্র

আমার বাড়ি

<10 minute school bangla smartbook

নারী

লেখক: কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

জগতের যত বড় বড় জয়, বড় বড় অভিযান
মাতা ভগ্নি ও বধুদের ত্যাগে হইয়াছে মহীয়ান ।
কোন রণে কত খুন দিল নর, লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিঁথির সিদুর, লেখা নাই তার পাশে।

কত মাতা দিল হৃদয় উপাড়ি, কত বোন দিল সেবা,
বীর স্মৃতি-স্তম্ভের গায়ে লিখিয়া রেখেছে কেবা?
কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারি,
প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয়-লক্ষী নারী।

                                             সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল নাকো, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ,মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি,
কেহ রহিবেনা বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি!
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐকারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
                                                যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে-পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!

শেয়ার করো ফেসবুকে!


মূলভাব:

নারী ও পুরুষের সমতাকে কবি এই কবিতায় প্রকাশ করতে চেয়েছেন । কবির চোখে নারী এবং পুরুষের মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। সভ্যতার উন্নতির পেছনে নারী এবং পুরুষ – উভয়েরই অবদান অপরিসীম । কিন্তু মানব সভ্যতার ইতিহাসে পুরুষদের অবদানকে মহিমান্বিত করা হলেও নারীদের অবদানকে করা হয়েছে উপেক্ষা । পৃথিবীর সব অর্জনের পেছনে রয়েছে নারী ও পুরুষের সমান অবদান। বর্তমান যুগ সম অধিকারের যুগ। এ যুগে নারী ও পুরুষ একে অপরের দুঃখ বেদনার সমভাগী হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সভ্যতার উন্নতির জন্য কাজ করে যাবে। পুরুষ যদি নারীকে ঘর বন্দি করে রাখে তবে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরুষদেরও একসময় ঘরবন্দি হতে হবে কেননা যুগের ধর্ম অনুযায়ী অন্যের ক্ষতি সাধন করতে গেলে নিজেকেই সেই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। নারী ও পুরুষ সকল ভেদাভেদ ভুলে সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য কাজ করবে- এটাই কবির প্রত্যাশা।

কুইজ দিয়ে ঝালিয়ে না নিজেকে!

অন্যান্য স্মার্টবুকগুলো