ষষ্ঠ শ্রেণি: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা

টেলিভিশনে খবরে সাগর দেখলো, কিছুদিন পরই সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এটি নিয়ে নাকি বাংলাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। সে বুঝতে পারলো না এই সার্ক সম্মেলন আসলে কী? তাঁর বাবাকে সে বললো, “বাবা এই সার্ক সম্মেলন আসলে কী?” তাঁর বাবা তাঁকে বললেন, “দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশ নিয়ে এই দেশের নেতারা অর্থনৈতিক, সামাজিকসহ অন্যান্য অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করেন। যা সার্ক সম্মেলনে দেখা যায়।” বন্ধুরা, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চলো আমরাও জেনে আসি অন্যান্য আরো বিষয় নিয়ে।

আঞ্চলিক সহযােগিতার গুরুত্ব ও এর ক্ষেত্র

আধুনিক বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমস্যা ও প্রয়ােজন বিভিন্ন রকম। কোনাে রাষ্ট্রের পক্ষেই এককভাবে তার সকল প্রয়ােজন পূরণ করা সম্ভব নয়। অথচ এ সমস্ত প্রয়ােজন ও সমস্যার সমাধান না হলে কোনাে রাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্ভব হয় না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলাে যদি পরস্পরকে সহযােগিতা করে তাহলে অনেক সমস্যার সহজ সমাধান হয়। তাই একই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রগুলাে পরস্পর সহযােগিতা করে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক সহযােগিতা সংস্থা গড়ে উঠে।

উল্লেখযােগ্য আঞ্চলিক সহযােগিতা সংস্থাসমূহ


আরো কিছু আঞ্চলিক সহযােগিতা সংস্থাসমূহ

এছাড়াও আফ্রিকার দেশগুলাে মিলে গড়ে তুলেছে ওএইউ বা Organization of African Unity (OAU); আরব দেশগুলাের সংগঠন আরবলীগ; মুসলিম দেশগুলাের সংগঠন ওআইসি বা Organization of Islamic Cooperation (OIC)। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি’র সদস্যপদ লাভ করে। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশগুলােকে নিয়ে গড়ে উঠেছে কমনওয়েলথ; আবার কোনাে সামরিক জোটের সদস্য নয় এমন দেশগুলাে নিয়ে গড়ে উঠেছে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা Non-Aligned Movement (NAM)। বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এবার নিচের কুইজটি দিয়ে ঝালাই করে নাও নিজেকে


সাগরের মতো তোমরাও আশা করি বুঝে গিয়েছো, বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে। তোমার বন্ধুদেরও জানাতে এখনই শেয়ার করে নাও এই স্মার্টবুকটি।