ষষ্ঠ শ্রেণি: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি

একটা সময় ছিল যখন এক দেশ থেকে অন্য দেশে কেউ চিঠি লিখলে সেই চিঠি যেতে এক দুই সপ্তাহ লেগে যেত। এখন কাজের কথা বিনিময় করার জন্যে নতুন অনেক পদ্ধতি বের হয়েছে। সেগুলো ব্যবহার করে চোখের পলকে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে চিঠি পাঠাতে পারে। শুধু কি চিঠি? চিঠির সাথে ছবি, কথা, ভিডিও সবকিছু পাঠানো সম্ভব। বলতে পারো পুরো পৃথিবীটা একেবারে হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। সেটা বোঝানোর জন্যে গ্লোবাল ভিলেজ (Global village) বা বৈশ্বিক গ্রাম নামে একটা নতুন শব্দ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়েছে। এর সবই সম্ভব হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির জন্যে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ধারণা

আগে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করতো শুধু বড় বড় দেশ কিংবা বড় বড় প্রতিষ্ঠান। তার কারণ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্যে প্রয়োজন হতো কম্পিউটার আর সেই কম্পিউটার তৈরি করা কিংবা ব্যবহার করার ক্ষমতা সবার ছিল না। কম্পিউটার এখন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। যে প্রযুক্তি একসময় ভোগ করতো শুধু খুব বড় বড় প্রতিষ্ঠান কিংবা অল্প কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, এখন সাধারণ মানুষও সেটা ভোগ করতে শুরু করেছে।

একদিকে যেমন পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের তথ্য দেওয়া নেওয়া সহজ হয়ে গেছে, ঠিক সেরকম অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাশালী মানুষ যে তথ্যটি নিতে পারে, একেবারে সাধারণ একজন মানুষও ঠিক সেই তথ্যটি নিজের জন্যে নিতে পারে। কাজেই বলা যেতে পারে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার একটা বিপ্লব শুরু হয়েছে। সেই বিপ্লব কোথায় থামবে কেউ বলতে পারে না!

উপাত্ত ও তথ্য

তোমাকে যদি বলা হয় ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫, তাহলে তুমি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে এই সংখ্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং কেন তোমাকে এই সংখ্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে বোঝার চেষ্টা করবে। তুমি যতই চেষ্টা করো, তুমি এই সংখ্যাগুলোর কিছুই বুঝতে পারবে না। কিন্তু তোমাকে যদি বলে দেওয়া হয় এটি হচ্ছে রিমি নামে একটা মেয়ে যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তার বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান আর ধর্ম শিক্ষার পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, তাহলে হঠাৎ করে সংখ্যাগুলোর অর্থ তোমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এখানে ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫ হচ্ছে উপাত্ত বা ডাটা (Data)। একজনকে যদি শুধু উপাত্ত দিয়ে আর কিছু বলে দেওয়া না হয়, তাহলে এই উপাত্তগুলোর কিন্তু কোনো অর্থ নেই। কিন্তু যখন সাথে সাথে তোমাকে বলে দেওয়া হয় যে এগুলো রিমি নামে একটি মেয়ের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, তখন তার একটা অর্থ খুজেঁ পাওয়া যায়। তথ্যকে যদি বিশ্লেষণ করা হয় সেখান থেকে কিন্তু জ্ঞান বের হয়ে আসে।

তথ্য ও যোগযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

সত্যি কথা বলতে কি পৃথিবীটা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, আমরা যদি আমাদের জীবনের কাজকর্মগুলো তথ্য আর যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে না করি, তাহলে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ব।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শেখার দরজা সবার জন্য খোলা, তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি এই প্রযুক্তি শিখে নিতে পারবো, তত তাড়াতাড়ি আমরা দেশকে সম্পদশালী করে গড়ে তুলতে পারবো।

চলো এবার ঝটপট একটা কুইজ দিয়ে ফেলি!


ছোট্ট বন্ধু, আমাদের এই চমৎকার স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না!