পণ্যের ক্রয়মূল্য, উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে যে সমস্ত পণ্য সামগ্রী উৎপাদন, ক্রয় এবং বিক্রয় করা হয় সে সমস্ত পণ্য দ্রব্যের যথাযথ মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী সঠিকভাবে মূল্য নির্ধারণ করতে না পারলে ব্যবসায়ের ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি পারস্পরিক আরো নানাবিধ সমস্যার উদ্ভব হবে। ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রতিটি পণ্যদ্রব্যের উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যয় বা পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সঠিক ক্রয়মূল্য এবং সর্বোপরি সঠিকভাবে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েরই স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ :

প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানেরই হিসাবরক্ষণের মুখ্য উদ্দেশ্য হলো প্রকৃত লাভ লোকসান নির্ণয় করা। প্রকৃত লাভ লোকসান নির্ণয় তখনই সম্ভব হবে যদি পণ্যের সঠিক ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা যায়। সাধারণত ক্রয়কৃত পণ্যের দামের সাথে যে সমস্ত খরচ সমূহ সরাসরি জড়িত সে সমস্ত খরচসমূহ যোগ করে ক্রয়মূল্য নিরূপণ করা হয়। পাশাপাশি ক্রয়মূল্যের সাথে পণ্যকে বিক্রয় উপযোগী করা পর্যন্ত যে সমস্ত খরচগুলো সংঘটিত হয় সেগুলোকে যোগ করে তার সাথে প্রত্যাশিত মুনাফার পরিমাণ যোগ করে পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ণয় করা হয়ে থাকে।

ক্রয়মূল্য নিরূপণ :

সাধারণভাবে ক্রয়মূল্য বলতে বুঝায় পণ্য ক্রয়ের সময় বিক্রেতাকে যে মূল্য প্রদান করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিক্রেতাকে দেয়া প্রদত্ত অর্থের সাথে ক্রেতার গুদাম পর্যন্ত পণ্য পৌঁছান বাবদ যে সমস্ত আনুষাঙ্গিক খরচ সংঘটিত হয়ে থাকে তার যোগফলের সমষ্টিই হচ্ছে ক্রয়মূল্য। ক্রেতার দোকান বা গুদামে পৌঁছানো পর্যন্ত যে সমস্ত খরচগুলো সংঘটিত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যক্ষ খরচ। যেমন- জাহাজ বা রেল ভাড়া, প্যাকিং খরচ, আমদানি শুল্ক, ডক চার্জ, বীমা খরচ, কুলি খরচ ইতাদি। উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝানো হলো

বিক্রয়মূল্য নিরূপণ

ক্রয়কৃত পণ্য বা উৎপাদিত পণ্যকে বিক্রয় উপযোগী করে তোলার জন্য অর্থাৎ ভোক্তার নিকট পৌঁছান পর্যন্ত ক্রয় মূল্যের সাথে অন্যান্য পরোক্ষ খরচ যেমন- দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ, বিজ্ঞাপন, পরিবহন খরচ ইত্যাদি যোগ করে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। এই মোট ব্যয়ের সাথে প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
 
উদাহরণ:
ঢাকার একজন ব্যবসায়ী জনাব নাসির উদ্দিন ভিয়েতনাম থেকে প্রতি বান্ডিল ৪,০০০ টাকা দরে ১,০০০ বান্ডিল ঢেউটিন আমদানি করেন। ১,০০০ বান্ডিল ঢেউটিনের জন্য তিনি নিম্নে উল্লেখিত খরচ গুলো পরিশোধ করেন- আমদানি শুল্ক ১৫,০০০; জাহাজ ভাড়া ৭৫,০০০; বীমা খরচ ৮,০০০; ক্লিয়ারিং চার্জ ৭,০০০; কুলি মজুরী ২,০০০; ট্রাক ভাড়া ২০,০০০; এছাড়া তিনি গুদাম ও দোকান ভাড়া ১২,০০০; কর্মচারীদের বেতন ৭,০০০ টাকা। প্রতি বান্ডিল ঢেউটিন বিক্রয়ের জন্য ১০ টাকা হারে কমিশন প্রদান করেন। উক্ত ব্যবসায়ী মোট ব্যয়ের উপর ১৫% লাভ ধরে ঢেউটিন বিক্রয় করেন।

উৎপাদন ব্যয় নির্ণয়ের উদ্দেশ্য :

উৎপাদন ব্যয় নির্ণয় করা উৎপাদন ব্যয় হিসাব বিজ্ঞানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। উৎপাদন ব্যয় নির্ণয়ের সাথে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে। নিম্নে উৎপাদন ব্যয় নির্ণয়ের উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হলো।

 

চলো ঝটপট এবার একটা ছোট্ট পরীক্ষা দিয়ে আসা যাক!

পণ্যের ক্রয়মূল্য, উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য অধ্যায়টি তোমরা বুঝেই ফেললে, এবার স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না কিন্তু!