এসএসসি বাংলা ২য় পত্র

ধ্বনিতত্ত্ব

ছোট্ট বিনিতা এখন সবগুলো বাংলা বর্ণ বলে ফেলতে পারে মুহূর্তেই। বর্ণমালা ছাড়া লিখে প্রকাশ করা যায়না একটি ভাষাকে। ছোট্ট বিনিতার মত আমরা সবাই ও কিন্তু পিচ্চিবেলায় বর্ণগুলোকে পড়তে, লিখতে শিখেছিলাম। তাতেই কি বর্ণ নিয়ে সব জানা হয়ে গেছে? মোটেও না। বর্ণগুলোর আছে বিভিন্ন ধরণের প্রকাশ, উচ্চারণ। চলো তাহলে, আরো একটু ভালভাবে জেনে নেয়া যাক বাংলা ভাষার ধ্বনি আর বর্ণ সম্পর্কে।

ধ্বনি, বর্ণ ও বর্ণমালা

কোনো ভাষার বাক্য প্রবাহকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে আমরা কতগুলো মৌলিক ধ্বনি (Sound) পাই। বাংলা ভাষাতেও কতগুলো মৌলিক ধ্বনি আছে। বাংলা ভাষার মৌলিক ধ্বনিগুলোকে প্রধান দুই ভাগে ভাগ করা হয় : ১. স্বরধ্বনি ও ২. ব্যঞ্জনধ্বনি

বর্ণ নিয়ে কিছু সংজ্ঞা:

বাংলা বর্ণমালায় মোট পঞ্চাশ (৫০)টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ এগার (১১)টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশটি (৩৯)টি

স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ

স্বরবর্ণের এবং কতগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের দুটি রূপ রয়েছে। প্রাথমিক বা পূর্ণরূপ এবং সংক্ষিপ্ত রূপ

কার

স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় সংক্ষিপ্ত স্বর বা ‘কার’। যেমন- ‘আ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ( া’)। ‘ম’-এর সঙ্গে ‘আ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ ‘ া ’ যুক্ত হয়ে হয় ‘মা’। বানান করার সময় বলা হয় ম এ আ-কার ( মা )। স্বরবর্ণের নামানুসারে এদের নামকরণ করা হয়

ফলা

স্বরবর্ণ যেমন ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে আকৃতির পরিবর্তন হয়, তেমনি কোনো কোনো ব্যঞ্জনবর্ণও কোনো কোনো স্বর কিংবা অন্য ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে য্ক্তু হলে, আকৃতির পরিবর্তন হয় এবং কখনো কখনো সংক্ষিপ্তও হয়। যেমন-ম্য, ম্র ইত্যাদি। ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় ‘ফলা’। যে ব্যঞ্জনটি যুক্ত হয়, তার নাম অনুসারে ফলার নামকরণ করা হয়।

স্বরধ্বনির উচ্চারণ

উচ্চারণের উপর ভিত্তি করে স্বরবর্ণগুলোকে সম্মুখধ্বনি, কেন্দ্রীয়ধ্বনি এবং পশ্চাৎধ্বনি এই তিনভাগে ভাগ করা হয়। জিহবার অবস্থানের উপর ভিত্তি করে এদের প্রত্যেককে আবার, উচ্চ, মধ্য, নিম্নমধ্য ও নিম্ন এই চারভাগে ভাগ করা যায়।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত

 

এছাড়াও কিছু কিছু ধ্বনির (অ, এ) দুই রকমের উচ্চারণ পাওয়া যায়। একধরণের উচ্চারন তাদের স্বাভাবিক উচ্চারণ যাকে বিবৃত উচ্চারণ বলে। আবার আরেকটু পরিবর্তিত উচ্চারণ ও পাওয়া যায় যাকে সংবৃত উচ্চারণ বলে।

নিচের চিত্রের (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে আরো বিস্তারিত জেনে নাও

 

আরো জানতে দেখে নাও নিচের ভিডিওটি

 

ঝালাই করে নাও নিজেকে

ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ

ক থেকে ম পর্যন্ত পাঁচটি বর্গে মোট পঁচিশটি ধ্বনি। এগুলোকে বলে র্স্পশ ধ্বনি। র্স্পশধ্বনি বা বর্গীয় ধ্বনিগুলোকে উচ্চারণরীতির দিক থেকে অল্পপ্রাণমহাপ্রাণ, অঘোষঘোষ প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা হয়।

এছাড়াও ধ্বনি উচ্চারনের জন্য কিছু প্রত্যঙ্গ ব্যবহৃত হয়। উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়।

চিত্রের (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে বিস্তারিত জেনে নাও

 

 

বর্ণের আরো বর্ণনা

সংযুক্ত ব্যঞ্জনধ্বনি ও যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ

চিত্রের (+) চিহ্নিত অংশে ক্লিক করে বিস্তারিত জেনে নাও!

 

কুইজটি দিয়ে ফেলো!

বিশেষ জ্ঞাতব্য

  1. অ-এর কোনো সংক্ষিপ্ত রূপ বা ‘কার’ নেই।
  2. বাংলায় “ঙ” এবং “ং” বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনিদ্বয়ে কোনো পার্থক্য লক্ষিত হয় না। যেমন-রঙ / রং, অহংকার / অহঙ্কার ইত্যাদি।
  3. ঙ ং ঞ ণ – এ চারটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি কখনো শব্দের প্রথমে আসে না, শব্দের মধ্যে কিংবা শেষে আসে। যেমন- সঙ্ঘ বা সংঘ, ব্যাঙ বা ব্যাং, অঞ্জনা, ভূঞা, ক্ষণ ইত্যাদি।
  4. বিসর্গ (ঃ) হলো অঘোষ ‘হ’-এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি। হ-এর উচ্চারণ ঘোষ, কিন্তুঃ এর উচ্চারণ অঘোষ। বাংলায় একমাত্র বিস্ময়াদি প্রকাশক অব্যয়েই বিসর্গের ধ্বনি শোনা যায়। যথা- আঃ, উঃ, ওঃ, বাঃ ইত্যাদি। সাধারণত বাংলায় শব্দের অন্তে বিসর্গ প্রায়ই অনুচ্চারিত থাকে। যেমন – বিশেষতঃ (বিশেষত), ফলতঃ (ফলত)। পদের মধ্যে বিসর্গ থাকলে পরবর্তী ব্যঞ্জন দ্বিত্ব হয়। যেমন – দুঃখ (দুখ্খ), প্রাতঃকাল (প্রাতক্কাল)।
  5. খণ্ড-ত (ৎ)-কে স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে ধরা হয় না। এটি ‘ত’ বর্ণের হস্-চিহ্ন যুক্ত (ত্)-এর রূপভেদ মাত্র।
  6. বাংলা বর্ণমালায় যৌগিক স্বরজ্ঞাপক দুটো বর্ণ রয়েছে: ঐ এবং ঔ। উদাহরণ : কৈ, বৌ। অন্য যৌগিক স্বরের প্রতীক স্বরূপ কোনো বর্ণ নেই।
  7. যৌগিক স্বর : পাশাপাশি দুটি স্বরধ্বনি থাকলে দ্রুত উচ্চারণের সময় তা একটি সংযুক্ত স্বরধ্বনি রূপে উচ্চারিত হয়। এরূপে একসঙ্গে উচ্চারিত দুটো মিলিত স্বরধ্বনিকে যৌগিক স্বর, সন্ধিস্বর, সান্ধ্যক্ষর বা দ্বি-স্বর বলা হয়। যেমন-অ + ই = অই (বই), অ + উ = অউ (বউ)। বাংলা ভাষায় যৌগিক স্বরধ্বনির সংখ্যা পঁচিশ
  8. বাংলায় ঋ-ধ্বনিকে স্বরধ্বনি বলা চলে না। সংস্কৃতে এই ধ্বনিটি স্বরধ্বনিরূপে উচ্চারিত হয়। সংস্কৃত প্রয়োগ অনুসারেই বাংলা বর্ণমালায় এটি স্বরবর্ণের মধ্যে রক্ষিত হয়েছে।

যাচাই করো নিজেকে!

 

তাহলে অধ্যায়টি তোমরা বুঝেই ফেললে, এবার স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না কিন্তু!