জীবপ্রযুক্তি

দুধ থেকে দই তৈরি করা দেখেছো কখনো? অথবা অ্যালকোহল তৈরি? এখানেও কিন্তু জীববিজ্ঞানের ছোঁয়া রয়েছে। এগুলো সবগুলোই জীববিজ্ঞানের একটা আলাদা শাখায় আলোচনা করা হয়। এই শাখাকে জীবপ্রযুক্তি বা BIOTECHNOLOGY বলা হয়। তবে মাটি দিয়ে ইট তৈরি, মাটির গভীর থেকে গ্যাস তেল উঠানো ইত্যাদি প্রযুক্তি হলেও এগুলো কিন্তু জীবপ্রযুক্তি নয়। জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের একটি আধুনিক ও প্রয়োগমুখী শাখা। হাঙ্গেরীয় কৃষিপ্রকৌশলী কার্ল এরেকি সর্বপ্রথম ১৯১৯ সালে বায়োটেকনোলজি শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

জীবপ্রযুক্তির অবদান/ গুরুত্ব

টিস্যু কালচার

গবেষণাগারে কোন টিস্যুকে পুষ্টি মাধ্যমে কালচার করাকে টিস্যু কালচার বলে। উদ্ভিদের যেকোন বিভাজনক্ষম অঙ্গ থেকে (যেমন: শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচি পাতা, পাপড়ি ইত্যাদি) বিচ্ছিন্ন কোন টিস্যু উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে বৃদ্ধি (পূর্ণাঙ্গ চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি) করে টিস্যু কালচার করা হয়।
চল জেনে নেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।
উদ্ভিদের টটিপোটেন্সি ক্ষমতার কারণেই টিস্যু কালচার সম্ভব হয়।
টিস্যু কালচারে এক্সপ্লান্ট থেকে অণুচারা তৈরি করা হয়।
জার্মান উদ্ভিদবিজ্ঞানী হ্যাবারল্যান্ডট কে টিস্যু কালচারের জনক বলা হয়।
টিস্যু কালচারকে ইন-ভিট্রো কালচারও বলা হয়।

টিস্যু কালচারের ধাপসমুহ


(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত!






জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

রহস্যের জালে আবৃত জীবদেহ (উদ্ভিদ ও প্রানীদেহ)। ক্যান্সার হচ্ছে কিভাবে? কেনই বা হচ্ছে? এইচআইভি এইডসের টিকা কেন তৈরী করা যাচ্ছে না? কেনইবা মাকসুদুল আলম নামটা নিয়ে এতো কথা বলি? শুধু কেন আর কেন। যেন ‘কেন’ এর হাটবাজার। হ্যা, এই কেন’ই দেবে তোমার সকল প্রশ্নের উত্তর। তোমার সকল অন্ধকার দুর করে দেবে এক চিলকে আলোর পরশ। এই আলোর পরশের নাম ই হল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং

জীবদেহের ক্ষুদ্রতম একক কোষ

আর এই কোষের মধ্যে থাকে নিউক্লিয়াস

নিউক্লিয়াসের ভিতর ক্রোমোজোম

DNA

আর DNA এর নির্দিষ্ট খন্ড হল জিন

DNA এর কাঙ্ক্ষিত অংশ (জিন) কেটে ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রানীতে, প্রাণী থেকে উদ্ভিদে এখন স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে। এ ধরনের জীবকে বলা হয় ট্রান্সজেনিক বা GMO (জেনেটিক্যালি মডিফাইড অর্গানিজম)। আবার, মানুষের শরীরের ইনসুলিন তৈরীর জিন ব্যাকটেরিয়ার (E.coli) শরীরে স্থাপন করে এখন এই সমস্ত ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ইনসুলিন তৈরী করা সম্ভব হচ্ছে। আবার মানুষের জিন ভেড়ার শরীরে স্থাপন করার পর দেখা গেছে যে, এদের প্রতি লিটার দুধে ৩৫ গ্রাম Alpha-1-antitripsin নামক প্রোটিন পাওয়া যায়। ট্রান্সজেনিক খরগোস থেকে interleukin-2 নামক যে প্রোটিন পাওয়া যায়। সুতরাং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হল এক কোষ থেকে কোন সুনির্দিষ্ট জিন অন্যকোষে স্থাপন ও কার্যক্ষম করার কলাকৌশল। আর যে পদ্ধতি প্রয়োগ করে এটি করা হয় তা হল রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি, যা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


আরো মজার সব তথ্য জানতে চলে যাও পরবর্তী পৃষ্ঠায়!