এসএসসি জীববিজ্ঞান

জীবপ্রযুক্তি

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর জন্য যে পদ্ধতি বা টেকনোলজি প্রয়োগ করা হয় তাকে বলা হয় রিকম্বিনেন্ট DNA টেকনোলজি। একটি DNA অণুর কাঙ্খিত দু জায়গা কেটে খন্ডটিকে আলাদা করে অন্য এক DNA অনুর নির্দিষ্ট জায়গায় সংযুক্ত করার ফলে যে নতুন ধরনের DNA অণু পাওয়া যায়, তাকে রিকম্বিনেন্ট DNA বলে। রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরীর প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। এ পদ্ধতি প্রয়োগে কোনো সুনির্দিষ্ট জিনসহ DNA অণুর অংশকে কোষের বাইরে ছেদন করে ব্যাকটেরিয়ার প্লাসমিড DNA তে প্রতিস্থাপন করা হয়। এভাবে গঠিত নতুন জিন ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে সংখ্যায় বৃদ্ধি করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া হিসেবে E. coli ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয়।

তাহলে চলো রিকম্বিনেন্ট DNA তৈরি করি এবার।


রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করার প্রধান ধাপসমূহ


রিকম্বিনেন্ট DNA কাঙ্খিত জিন বহন করছে কিনা তা শনাক্ত করতে হবে আর এটি করা হয় জেনেটিক প্রোব উপায়ে (genetic probe device)। এটি মেটাল ডিটেক্টর এর তুলনীয় একটি উপায়। জেনেটিক প্রোব হল রেডিও এক্টিভলি চিহ্নিত টার্গেট/কাঙ্খিত জিনের পরিপুরক এক স্ট্র্যান্ডবিশিষ্ট DNA বা mRNA। যাইহোক, কাঙ্খিত জিনসমৃদ্ধ কোন কাঙ্খিত উদ্ভিদ সৃষ্টি করতে হলে কাঙ্খিত জিনকে ঐ উদ্ভিদকোষে টিস্যু কালচারের মাধ্যমে প্রবেশ করাতে হবে। সঠিকভাবে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA পরে টিস্যুকালচার প্রক্রিয়ায় কাঙ্খিত উদ্ভিদের কোষে প্রবেশ করাতে হবে। পরে ঐ কোষ থেকে নতুন ও কাঙ্খিত জিন সহ নতুন প্রকৃতির উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়। এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করা হয়। এরূপ উদ্ভিদকে বলা হয় ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ।


এখন পর্যন্ত ৬০টি উদ্ভিদে এ পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে এরা নিজ শরীরে বিভিন্ন প্রোটিন তৈরী করতে পারে, যা দিয়ে তারা বিভিন্ন কীটপতঙ্গ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া এই টেকনোলজি প্রয়োগ করে এদেরকে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।

এই টেকনোলোজি প্রয়োগ করে সুইডেনের একদল বিজ্ঞানী উদ্ভাবন করেন সুপার রাইস। তারা japonica টাইপ ধানে ড্যাফোডিল থেকে বিটা ক্যারোটিন তৈরীর চারটি জিন ও অতিরিক্ত আয়রন তৈরীর তিনটি জিন প্রতিস্থাপন করে সুপার রাইস উদ্ভাবন করেন। এই ভাত খাওয়ার মাধ্যমে ভাতপ্রধান দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ শিশু ভিটামিন-এ এর অভাবজনিত রাতকানা রোগ থেকে এবং মায়েরা দেহে রক্তশুন্যতাজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা পাবে।

বিজ্ঞানের এই অবদানগুলো লিপিবদ্ধ করা আছে পাতার পরে পাতায়। এগুলো কোন সাধারন পাতা নয়। এগুলো থেকে নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা খুজে বের করবে বিজ্ঞানের নতুন নতুন পথ। উন্মোচন করবে নতুন কোন দিক। আর এই লিপিবদ্ধ পাতাগুলোকে বলা হচ্ছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।

এতক্ষন যা যা শিখেছি, চলো শেষবারের মত ঝালাই করে নেই! 



আমাদের স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না!