জীবে পরিবহন

পৃথিবীর ক্ষুদ্র থেকে বিশালাকার জীবদের বেঁচে থাকার জন্যে পরিবহন। এসব কারণে তাদের বিশাল শরীরে বিভিন্ন বস্তু পরিবহন হতে হয় যাতে করে তারা জীবনধারণ করতে পারে। এই যেমন আমরা উদ্ভিদের কথাই ধরি। গাছ তো সবাই দেখেছি? আচ্ছা বলো তো, গাছের শিকড় বা মূল কোনদিকে থাকে? উপরের দিকে না নিচের দিকে? তুমি অবশ্যই বলবে মাটির দিকে অর্থাৎ নিচের দিকে। কারণ উদ্ভিদ মাটি থেকে মূল দিয়ে পানি এবং বিভিন্ন খনিজ লবণ শোষণ করে। এবার লাইনে আসো। “ভাইয়া, শোষণ করলে তো হবেনা! এসব জিনিস উদ্ভিদের প্রতিটি কোষে পাঠাতে হবে!” এ কারণেই পরিবহনের কথা আসলো।

Climate

আবার যদি প্রাণী বা মানুষের কথা চিন্তা করো, আমরা বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্যাস গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ছাড়ি। এই অক্সিজেন শুধু নিলেই তো হবেনা, প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছাতে হবে এবং প্রতিটি কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে পরিবহনের কাজটা করে রক্ত। আশা করি, এতক্ষণে পরিবহন ব্যাপারটা বুঝে গেছি আমরা।

উদ্ভিদ ও পানির সম্পর্ক

প্রাণী বা উদ্ভিদ কেউই পানি ছাড়া বাঁচতে পারে না। সেজন্য পানির অপর নাম জীবন আমরা সবাই জানি। উদ্ভিদ দেহ তার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যেমন ধরো সালোকসংশ্লেষণ, প্রস্বেদন কিংবা বিভিন্ন বিপাকীয় কাজগুলো করার জন্য পানি পরিবহনের বেশ প্রয়োজন হয়৷ প্রোটোপ্লাজমকে সজীব রাখতেও পানির প্রয়োজন।

এখন প্রশ্ন হলো, এ পানি উদ্ভিদ পায় কোথা থেকে? উদ্ভিদ প্রধানত মূলের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি শোষণ করে। তিনটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি হয়ে থাকে। এগুলো হলো- ইমবাইবিশন, ব্যাপন অভিস্রবণ

পানি ও খনিজ লবণ শোষণ

মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ উদ্ভিদদেহের সজিব কোষে টেনে নেয়াকে শোষণ বলে। উচ্চ শ্রেণির উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে মাটি থেকে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে থাকে।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত


উদ্ভিদে পরিবহন

উদ্ভিদ মূলরোমের সাহায্যে পানি ও খনিজ লবণ মাটি থেকে শোষণ করে। এই পানি ও খনিজ লবণের দ্রবণকে কান্ড এবং শাখা-প্রশাখার মধ্য দিয়ে পাতায় পৌঁছানো দরকার। কারণ পাতাই প্রধানত এগুলোকে সালোকসংশ্লেষন প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির রসদ হিসেবে ব্যবহার করে। আবার, পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদ তার দেহের বিভিন্ন অংশে যথা- কান্ড ও শাখা-প্রশাখায় পাঠিয়ে দেয়। উদ্ভিদের মূলরোম দ্বারা শোষিত পানি ও খনিজ লবণ মূল থেকে পাতায় পৌঁছানো এবং পাতায় তৈরি খাদ্যবস্তু সারা দেহে ছড়িয়ে পড়াকে পরিবহন বলে। শোষণের মতো পরিবহন পদ্ধতিটিও উদ্ভিদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যু– জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যুর মাধ্যমে উদ্ভিদে পরিবহন ঘটে। জাইলেমের মাধ্যমে মূল দ্বারা শোষিত পানি পাতায় যায় এবং ফ্লোয়েম দ্বারা পাতায় উৎপন্ন তরল খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয়। সুতরাং জাইলেম ও ফ্লোয়েম হলো উদ্ভিদের পরিবহনের পথ। উদ্ভিদের পরিবহন প্রক্রিয়াটি নিম্নলিখিতভাবে সম্পন্ন হয়-

উদ্ভিদের মূলরোম দিয়ে পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় এবং পানিতে দ্রবীভূত খনিজ লবণ নিষ্ক্রিয় ও সক্রিয় শোষণ পদ্ধতিতে শোষিত হয়ে জাইলেম টিস্যুতে পৌছায়। জাইলেমের মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহে রসের উর্ধ্বমুখী পরিবহন হয়। ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় তৈরি খাদ্য রসের নিম্নমুখী পরিবহন হয়। উদ্ভিদের সংবহন বা পরিবহন বলতে প্রধানত উর্ধ্বমুখী পরিবহন এবং নিম্নমুখী পরিবহনকে বোঝায়।

উদ্ভিদের জন্য পরিবহন প্রক্রিয়াটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পরিবহন টিস্যুর কাজ কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে উদ্ভিদের মৃত্যু অবধারিত। এজন্য বলা হয় পরিবহন উদ্ভিদ জীবনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

প্রস্বেদন

উদ্ভিদ অব্যাহতভাবে তার মূলরোম দিয়ে পানি শোষণ করে এবং সেই পানি পাতা পর্যন্ত পৌঁছায়। উদ্ভিদ কর্তৃক শোষিত পানির সামান্য অংশ তার বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়া বিক্রিয়া খরচ এবং বেশির ভাগই (শতকরা 99 ভাগ পর্যন্ত) বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের বায়বীয় অঙ্গ৷ (সাধারণত পাতা) হতে অতিরিক্ত পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়, তাকে প্রস্বেদন বলে। প্রস্বেদন বায়বীয় অঙ্গের কোন অংশের মাধ্যমে ঘটে, তার ভিত্তিতে এদেরকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

IMG6

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু প্রভাবকের উপর নির্ভরশীল। যাদেরকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক প্রভাবকরুপে ভাগ করা যায়।

ডানে বামে swipe করে দেখে নাও বিস্তারিত


উদ্ভিদের জীবনে প্রস্বেদনের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রস্বেদনের গুরুত্বে উপকারী এবং অপকারী দুটি দিকই রয়েছে। নিচে দুটি দিকই আলোচনা করা হলো।


এবার সত্য/ মিথ্যা গুলো যাচাই করে নাও


মানবদেহে রক্ত সংবহন

মানুষের শরীরে বিভিন্ন ধরণের প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় পদার্থ যথাক্রমে প্রবেশ করানো এবং বের করে নিয়ে আসার জন্য সংবহনতন্ত্রের প্রয়োজন হয়। বাহিকা সমৃদ্ধ এবং হৃদপিণ্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যে তন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয় তাকে রক্তসংবহনতন্ত্র বলে। এ তন্ত্রে প্রবাহিত রক্তের মাধ্যমে খাদ্য, অক্সিজেন এবং রক্তের বর্জ্য পদার্থ দেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবাহিত হয়। মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের কেননা এটি কেবল হৃদপিণ্ড এবং রক্তনালীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কখনো এর বাইরে আসে না।পরিবহনতন্ত্রকে সাধারণত দুটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা:

১. রক্তসংবহনতন্ত্র যা হৃদপিণ্ড, ধমনী, শিরা ও কৈশিকনালিকা নিয়ে গঠিত।
২. লসিকাতন্ত্র যা লসিকা, লসিকানালী ও ল্যাকটিয়াল নালী নিয়ে গঠিত।

লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, সামান্য ক্ষারীয়, চটচটে, লবণাক্ত প্রকৃতির তরল যোজক টিস্যুকে রক্ত বলে। হাড়ের লাল অস্থিমজ্জায় রক্ত কণিকার জন্ম হয়। সুনির্দিষ্ট বাহিকার মাধ্যমে রক্ত দেহের সবখানে সঞ্চালিত হয়ে থাকে। রক্তরস ও রক্তকণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

রক্তকণিকার বিভিন্ন রোগ সম্পর্কে জানতে চলে যাও পরবর্তী পৃষ্ঠায়