পদার্থের অবস্থা

বেশ কিছুদিন ধরে লিয়ানা একটা বিষয় বেশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সে দেখলো পানির বোতলকে যখন ফ্রিজে রাখা হয় তখন এটি বরফে পরিণত হয়। আবার পানিকে যখন তাপ দেয়া হয় এটি বাষ্পীভূত হতে থাকে। সে তার আম্মুকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করলো। তার আম্মু তখন তাকে বললো, “শোনো, আমাদের চারপাশে যত প্রকারের পদার্থ রয়েছে তা কখনও কঠিন, কখনও বা তরল কিংবা কখন কখনও গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। এগুলো হলো পদার্থের বিশেষ কিছু অবস্থা। কক্ষ তাপমাত্রায় পানি তরল অবস্থায় থাকে। কিন্তু যখন এটির তাপমাত্রা 0⁰C এর কম হয় তখন এটি বরফে পরিণত হয় আবার যখন এর তাপমাত্রা 100⁰C এর উপরে চলে যায় তখন এটি বাষ্পে পরিণত হয়। কঠিন, তরল, বাষ্প প্রতিটি পদার্থেরই রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য বা ধর্ম। চলো জেনে নেই সেগুলো।” লিয়ানা তখন বললো, “হ্যাঁ, আম্মু তুমি আমাকে পদার্থের অবস্থা ও এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়েও বলবে কিন্ত!”

পদার্থের তিনটি অবস্থা


কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের মধ্যে পার্থক্য

কঠিন পদার্থ তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থ
নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে নির্দিষ্ট আয়তন আছে নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ কঠিন পদার্থের চেয়ে কম আন্তঃআণবিক আকর্ষণ সবচেয়ে কম
আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে কম আন্তঃআণবিক দূরত্ব মোটামুটি বেশি আন্তঃআণবিক দূরত্ব সবচেয়ে বেশি
চাপ প্রয়োগে আয়তন সংকুচিত হয় না চাপ প্রয়োগে তরল পদার্থের উল্লেখযোগ্য সংকোচন ঘটে না চাপ প্রয়োগে আয়তন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়
কণাগুলো পরস্পরের সংস্পর্শে থাকে কণাগুলো কাছাকাছি একত্রে থাকে কণাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকে
আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতিশক্তির চেয়ে বেশি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল এবং গতিশক্তির মান কাছাকাছি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল গতিশক্তির চেয়ে কম

ব্যাপন ও নিঃসরণ

এবারে আমরা জানবো ব্যাপন ও নিঃসরণ সম্পর্কে। ব্যাপন ও নিঃসরণ বোঝার জন্যে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো পারফিউম।

Perfume

পারফিউম যখন আমরা শরীরে ব্যবহার করি তখন এর সুগন্ধ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তাই না? সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ার এ ঘটনাটি হলো ব্যাপন। আর সরু ছিদ্রপথ দিয়ে যখন পারফিউম কণা আকারে বেরিয়ে আসে, এটি হচ্ছে নিঃসরণ। ব্যাপন ও নিঃসরণ মূলত একই ধরনের ঘটনা হলেও এদের মূল পার্থক্য হলো চাপের দিক দিয়ে। ব্যাপনের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব না থাকলেও নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের বেশ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। ব্যাপন ও নিঃসরণের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। চলো দেখে নেই সেগুলো।

ব্যাপন ও নিঃসরণের পার্থক্য

ব্যাপন নিঃসরণ
পদার্থের কণা বা অণুসমূহের ইতস্তত স্বতঃস্ফূর্ত চলাচলের কারণে ব্যাপন প্রক্রিয়া ঘটে। গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে চাপের পার্থক্যের কারণে নিঃসরণ প্রক্রিয়া ঘটে।
ব্যাপন হলো সমবায়ুচাপে অণুসমূহের স্বতঃস্ফূর্ত মন্থর প্রক্রিয়া। নিঃসরণ হলো অধিক চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় অণুর দ্রুত চলন প্রক্রিয়া।
ব্যাপনের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে ও বাইরে একই বায়ুচাপ থাকে। নিঃসরণের বেলায় গ্যাস পাত্রের ভেতরে অধিক চাপ এবং বাইরে কম চাপ থাকে।
এটি একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এটি একটি যান্ত্রিক ঘটনা।
ফুলের সুগন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ। গাড়ীর চাকার টিউবের ছিদ্র পথে বাতাস বের হওয়া নিঃসরণের উদাহরণ।

কতটুকু শিখলে এবার যাচাই করে নাও


মোমবাতির জ্বলন এবং মোমের তিন অবস্থা

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


গলন ও স্ফুটন

মোমের জ্বলনে আমরা যে তরল ও বাষ্পীয় অবস্থা দেখেছি তা হলো মূলত গলন স্ফুটনের মাধ্যমে হয়েছে। এদের সাথে সংশ্লিষ্ট গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সম্পর্কে জেনে নেই চলো।

গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বোঝার জন্য চলো আমরা তাপে বরফের অবস্থান পরিবর্তনের গ্রাফটি দেখে নেই। যেখানে আমরা দেখবো এক টুকরো বরফ থেকে ক্রমশ কীভাবে পানি ও জলীয় বাষ্পের উৎপত্তি হয়।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


পাতন ও ঊর্ধ্বপাতন

পাতন হচ্ছে মূলত তরলের বাষ্পীভবন ও বাষ্পের ঘনীভবনের সমষ্টি। তাপ প্রয়োগে তরলকে বাষ্পে রূপান্তর ও শীতলীকরণের ঘনীভূত হয়ে একই তরল পদার্থে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে পাতন বলে। তরল যৌগের বিশোধন এর জন্য পাতন পদ্ধতি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়।

অপরদিকে উর্ধ্বপাতন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতক্রমে বাষ্পকে শীতল করলে তরলে পরিণত না হয়ে এটি কঠিন পদার্থে রুপান্তরিত হয়। নিচের ছবিটিতে কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা ড্রাই আইসের ঊর্ধ্বপাতন দেখানো হচ্ছে৷ যেখানে দেখা যাচ্ছে কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড সরাসরি গ্যাসীয় অবস্থায় পরিণত হচ্ছে।

Dry Ice

কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়াও বেশ কয়েকটি পদার্থ রয়েছে যারা উর্ধ্বপাতন এর বৈশিষ্ট্য বহন করে থাকে। এগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থও বলা হয়। যেমন- কর্পূর (C₁₀H₁₆O), নিশাদল (NH₄Cl), ন্যাপথালিন (C₁₀H₈), আয়োডিন (I₂), কঠিন কার্বন ডাই- অক্সাইড বা ড্রাই আইস (CO₂) ইত্যাদি।

এবার নিচের সত্য/ মিথ্যা গুলো যাচাই করে নাও


লিয়ানার মত তোমরাও নিশ্চয়ই এতক্ষণে পদার্থের অবস্থা সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য জানতে পেরেছো। স্মার্টবুকটি শেয়ার করে দাও তোমার বন্ধুদের মাঝেও যাতে করে তারাও পদার্থের অবস্থার উপর ভালো ধারণা অর্জন করতে পারে।