এসিড-ক্ষার সমতা

একটু পরই শুরু হবে রসায়ন ক্লাস। শিক্ষক ক্লাসে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “আচ্ছা, আজকে তোমরা কোন অধ্যায়টি পড়তে চাও?” সবাই একযোগে “এসিড-ক্ষার সমতা” অধ্যায়টির কথা বললো। শিক্ষক বললেন, “বেশ তো! তাহলে চলো শুরু করি এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দুটি টপিক এসিড ও ক্ষার দিয়ে।”

এসিড বা ক্ষার হল এমন কিছু রাসায়নিক দ্রব্য যা আমাদের শরীর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফলমূল, শাকসবজি কিংবা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যেও বিদ্যমান। যেমন ধরো লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক এসিড, ভিনেগারে ইথানয়িক এসিড, তেঁতুলের টারটারিক এসিড, সফট ড্রিংকসে কার্বনিক এসিড এবং এমনকি আমাদের অনেকের প্রিয় দুধের মধ্যেও রয়েছে ল্যাকটিক এসিড। ক্ষারসমূহ থাকে আমাদের ব্যবহার্য পণ্যগুলোতে। যেমন – টুথপেষ্ট, টয়লেট ক্লিনার, সাবান ইত্যাদিতে।

এসিড বা ক্ষারের মধ্যে কোনটি থাকে দূর্বল আবার কোনটি থাকে বেশ শক্তিশালী। তীব্র এসিড বা ক্ষার পানিতে সম্পূর্ণরূপে বিয়োজিত হয় কিন্তু দুর্বল এসিড কিংবা ক্ষার সেটা পারে না, তারা আংশিকভাবে বিয়োজিত হয়।

“আচ্ছা শিক্ষক, আমরা এসিড ও ক্ষারগুলোকে কীভাবে চিনবো?” জানতে চাইলো নিশাত। শিক্ষক তখন বললেন, “তুমি একটি দারুণ প্রশ্ন করেছো। এসিড বা ক্ষারসমূহের নির্দিষ্ট কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যাদের সাহায্যে ওদের সহজেই চেনা যায়।”

জেনে নেই এসিড ও ক্ষারের ধর্মসমূহ

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত


গাঢ় এসিডমূহ সম্পর্কে ছোট্ট করে জেনে নেই

যে এসিডে পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকে সেই এসিডকে গাঢ় এসিড বলে। যেমন: গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), গাঢ় সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄), গাঢ় নাইট্রিক এসিড (HNO₃) ইত্যাদি। গাঢ় এসিডগুলো ল্যাবরেটরিতে বিভিন্ন বিক্রিয়া করার জন্যে প্রয়োজন হয়। তবে এই গাঢ় এসিড কিন্তু বেশ ক্ষতিকর। এগুলো হাতে, মুখে, চোখে বা শরীরে পড়লে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। তাই এগুলো ব্যবহারের সময় হ্যান্ডগ্লাভস, চোখে গগলস, মুখে মাস্ক শরীরে অ্যাপ্রোন ইত্যাদি পরিধান করে সতর্কতার সাথে কাজ করতে হবে।

তিনটি এসিডের মধ্যে গাঢ় নাইট্রিক এসিডকে কাঁচের বোতলে পরিবর্তে বাদামী বর্ণের বোতলে রাখা হয়। কাঁচের বোতলে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে এবং আলোর উপস্থিতিতে নাইট্রিক এসিড ভেঙে যায়। আর বাদামী বর্ণের বোতলে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে না, তাই নাইট্রিক এসিডকে বাদামী বর্ণের বোতলে সংরক্ষণ করা হয়।

এসিড ক্ষার সম্পর্কে আমাদের কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন। এই প্রশ্নগুলো তোমাদের মনে নিশ্চয়ই উঁকি দিচ্ছে এখন, তাই না? আচ্ছা, আমি উত্তর দিচ্ছি এগুলোর।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত



এসিড ক্ষার সম্পর্কে তো অনেক জানলে তোমরা। এই অধ্যায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ টপিক হলো pH।

জেনে নেই pH সম্পর্কে

কোন দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়নের (H⁺) ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। pH দ্বারা Power of Hydrogen প্রকাশ করা হয়। কোন একটি দ্রবণ অম্লীয়, ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা জানার জন্য pH একক ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে।

এবার চলো জেনে নেওয়া যাক pH এর পরিমাপ নিয়ে-

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত


কতটুকু শিখলে তা এবার নিচের সত্য মিথ্যা থেকে যাচাই করে নাও






প্রশমন বিক্রিয়া

এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় যে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয় তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। একটা উদাহরণের সাহয্যে বুঝে নেওয়া যাক। হাইড্রক্লোরিক এসিড (HCl) ও সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এর দ্রবণ মিশ্রিত করা হলে এসিডের H⁺ আয়ন এবং ক্ষারের OH⁻ বিক্রিয়া করে পানি উৎপন্ন করে। এসিডের বাকি ঋনাত্মক Cl⁻ আয়ন এবং ক্ষারের ধনাত্মক আয়ন Na⁺ বিক্রিয়া করে লবণ (NaCl) উৎপন্ন করে। আর এভাবেই প্রশমন বিক্রিয়াটি সংঘটিত হয়। এটিকে প্রশমন বলার কারণ হলো এই বিক্রিয়ায় এসিড তার এসিডত্ব হারায় আর ক্ষার তার ক্ষারকত্ব হারায় এবং প্রশম পদার্থ লবণ আর পানি উৎপন্ন হয়।

HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H₂O(l)

উপরের বিক্রিয়াতে এক মোল হাইড্রোক্লোরিক এসিড এক মোল সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডকে সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।

এবার তাহলে জেনে আসা যাক দৈনন্দিন জীবনে প্রশমন বিক্রিয়ার গুরুত্ব নিয়ে-


জীবদেহে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় pH

শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। তার জন্যে বিভিন্ন pH মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হয়। নিচের ছকটি দেখলেই তা বুঝতে পারবে।

pH4

প্রসাধনী ব্যবহারে মানুষ ত্বক পরিষ্কার করতে ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় চুল পরিষ্কার করতে এবং বিভিন্ন কাজে প্রসাধনী ব্যবহার করে। ত্বকের পিএইচ 4.8 থেকে 5.5 এর মধ্যে থাকলে ত্বক অম্লীয় প্রকৃতির যা ত্বকে জীবাণুর আক্রমণ বা বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। তাই প্রসাধনীর পিএইচ 4.8 থেকে 5.5 এর মধ্যে থাকা ভালো।


এসিড বৃষ্টি

Acid Rain

কোন স্থানে যখন বজ্রপাত হয় সে স্থানে প্রায় 3000⁰C তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়। এ তাপমাত্রায় বায়ুতে উপস্থিত N₂ ও O₂ বিক্রিয়া করে NO উৎপন্ন করে। NO বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে NO₂ উৎপন্ন করে। বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত হয় সামান্য পরিমাণ এসিড উৎপন্ন করে। এই এসিড বৃষ্টির পানির সাথে মাটিতে পতিত হয়। এসিড যুক্ত এ বৃষ্টিকে তখন এসিড বৃষ্টি বলে এসিড বৃষ্টির pH এর মান 5-6 হয়।

CO₂ (g) + H₂O (l) → H₂CO₃ (aq)
2NO₂(g) + H₂O (g) → HNO₂ (aq) + HNO₃ (aq)


পানির খরতা, বিশুদ্ধতা পরীক্ষাসহ আরো অনেক কিছু জানতে চলে যাও পরবর্তী পৃষ্ঠায়