এসিড-ক্ষার সমতা

সকাল ৯:৪৫। বর্ষার তুমুল বৃষ্টিতেও কেমিস্ট্রি ল্যাবে হাজির অর্থী আর আদনান। কেমিস্ট্রি তাদের পছন্দের বিষয় এটা নিশ্চয়ই আর বলে দেয়া লাগবে না। ল্যাবে আর কেউ আসেনি; ক্লাস হওয়ারও কোন সম্ভাবনা নেই। এই সময়টাতে কী করা যায় ভাবতে ভাবতে অর্থীর চোখ পড়লো আলমাড়িতে সারিবদ্ধভাবে জারে সংরক্ষণ করা এসিড ক্ষারের দিকে। কোনো জারের উপর লেখা তীব্র এসিড, কোনোটার উপর মৃদু। কোনো ক্ষারে লেখা বেকিং সোডা, কোনোটার উপর ব্লিচিং পাউডার। অর্থী আদনানকে বললো, আয় দোস্ত, আমরা এসিড-ক্ষার নিয়ে একটা গল্প বানাই। যাদের এই অধ্যায় বুঝতে সমস্যা হবে তারা যেন আমাদের গল্প শুনে সহজেই এটা বুঝে ফেলতে পারে। আদনান বললো, আচ্ছা! আমি কিন্তু এসিড চাই, আমার এসিড অনেক ভালো লাগে।

acid base reaction
চিত্র: অম্লরাজ HNO3 এর প্রাসাদ

একদেশে ছিল এক রাজপুত্র (আমদের আদনান। যে কিনা এখানে এসিড!)। তার মনে অনেক দুঃখ। সে রাজ্য থেকে একা বের হতে পারে না। কারণ সে একা রাজ্যের আঙিনা ছেড়ে বের হতে পারে না। কারণ সে বের হলেই পানি, ধাতুর সংস্পর্শে অন্য কিছুতে পরিণত হয়। তাদের রাজ্য সবাই এসিড হওয়ায় তাকে নিষ্ক্রিয় করার কেউ নেই যে সে বের হলে তাকে কেউ স্পর্শ করলে তার কিছু হবে না। এই দেখে রাজঅম্ল (HNO3) সিদ্ধান্ত নিল তার প্রিয় পুত্রকে ক্ষার সাথী যোগাড় করে দিবে। এইসময় সে দশ রাজ্য দূরে থাকা তার ক্ষার বন্ধুকে বিষয়টি জানালো। ক্ষার বন্ধুর গলায়ও একই সুর, তার প্রিয় কন্যার (আমাদের অর্থী! যে কিনা এখানে ক্ষার!) কোন সাথী নেই। অতঃপর যা ভাবছো তাই হলো। রাজকন্যা আর রাজপুত্রের দেখা হলো এবং কিছু দিনের মধ্যেই তারা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গেল। এখন তারা মনের খুশিতে রাজ্যে রাজ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে। ঘুরে বেড়াতে গিয়ে তারা কয়েকটি জিনিস লক্ষ করলো। রাজপুত্র ছোটবেলায় জানত সকল ধাতু একই জিনিস। কিন্তু এখন আবিষ্কার করলো সব ধাতুর সক্রিয়তা এক নয়।

ধাতুর সক্রিয়তা সিরিজ (প্লাস চিহ্নিত অংশে ক্লিক করো!)



এসিডের সাথে বিভিন্ন বিক্রিয়া

এবার কুইজটি দিয়ে ফেলা যাক!


HNO3 রাজ্যের অবস্থা তাহলে বুঝতে পেরেছো তোমরা আশা করি। তোমার বন্ধুদেরও এই বিষয়ে জানাতে শেয়ার করো এই স্মার্টবুকটি।