রসায়ন ও শক্তি

শীতকালে গ্রামে বেড়াতে আসা চয়ন দেখলো এখানকার মানুষজন আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। সে খেয়াল করলো কাঠ পুড়ে আগুনের সৃষ্টি হচ্ছে। সে তার বাবার কাছে বিষয়টি জানতে চাইলো। তার বাবা তখন তাকে বলতে শুরু করলো।

কাঠের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের রাসায়নিক শক্তি যে কারণে এটিকে পোড়ালে মাধ্যমে আগুন জ্বলে। আমাদের চারপাশে রয়েছে রাসায়নিক শক্তির অনেকগুলো উদাহরণ। যেমন- ব্যাটারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে আলো জ্বলা, খনিজ তেল পুড়িয়ে তাপ শক্তি উৎপন্ন হওয়া ইত্যাদি। রসায়ন ও শক্তির মধ্যে রয়েছে চমৎকার সম্পর্ক। চলো তোমাকে একে একে সবগুলো বিষয় বুঝিয়ে বলি।

রাসায়নিক শক্তি

আমাদের চারপাশে রয়েছে এমন কিছু শক্তি যেগুলো মিলিত হয়ে সৃষ্টি করে রাসায়নিক শক্তি।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

তাপের পরিবর্তনের ভিত্তিতে রাসায়নিক বিক্রিয়ার শ্রেণিবিভাগ

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তনের হিসাব

রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের পরিবর্তনের মান দুই ভাবে নির্ণয় করা যায়। জেনে নেই চলো।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত


বিভিন্ন অণু-পরমাণু সমূহের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধনগুলোর রয়েছে বিভিন্ন মানের বন্ধন শক্তি।

Jul

এবারে বন্ধন শক্তির সাহায্যে বিক্রিয়া তাপ নির্ণয়ের একটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান দেখে নেয়া যাক।

Slide1

রাসায়নিক শক্তির ব্যবহার



তড়িতের সাহায্যে রাসায়নিক প্রক্রিয়া

তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করেও রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো যায়। নিচে কয়েকটি নিয়ে এদের প্রকারভেদসহ দেওয়া হলো:

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিণত করা হয় তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। এই কোষ দুই ধরনের। নিচের ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও।

বিদ্যুৎ পরিবাহী: যে সকল পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে তাদেরকে বিদ্যুৎ পরিবাহী পদার্থ বলে। যেমন- ধাতু, গ্রাফাইট, গলিত লবণ ইত্যাদি। এই ধরনের কোষও দুই ধরনের। যথা:

তড়িৎদ্বার: তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দন্ড বা গ্রাফাইট দন্ড প্রবেশ করানো হয় তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলে। এটিও দুই ধরণের। যথা:


তড়িৎ বিশ্লেষণ ও তড়িৎ বিশ্লেষণ কৌশল

যে তড়িৎ কোষের মাধ্যমে তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলে। গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের সময় উক্ত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষণ বলে।

(>) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে দেখে নাও পরের স্লাইডগুলো


তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যবহার

বর্তমান সময়ে শিল্পক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের ব্যবহার ব্যাপক। তড়িৎ বিশ্লেষণের কয়েকটি ব্যবহার জেনে নেই।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন

তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ও গ্যালভানিক কোষের পার্থক্য

তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ গ্যালভানিক কোষ
যে কোষে তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়, তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলে। যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে গ্যালভানিক কোষ বলে।
তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষে অ্যানোড ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং ক্যাথোড ঋণাত্মক চার্জযুক্ত। গ্যালভানিক কোষের অ্যানোড ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কিন্তু ক্যাথোড ধনাত্মক চার্জযুক্ত।
তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষে প্রকোষ্ঠ একটি। গ্যালভানিক কোষের প্রকোষ্ঠ দুইটি।
তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
কোন মৌল বা যৌগ উৎপাদন, ইলেকট্রোপ্লেটিং, ধাতু বিশোধন প্রভৃতি কাজে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ ব্যবহার করা হয়। তড়িৎ শক্তি উৎপাদন করার যন্ত্র, যেমন- ব্যাটারি তৈরিতে গ্যালভানিক কোষ ব্যবহৃত হয়।