বস্তুর উপর তাপের প্রভাব

গ্যাসের প্রসারণ

গ্যাসের প্রসারণ এর অংশটুকু পড়তে যেয়ে আনিসা ভেবে দেখে, যেই জিনিস চোখে দেখা যায় না, তার প্রসারণ নিয়ে আবার কত ধরণের তত্ত্ব!

তোমরা নিশ্চয়ই জানো, কঠিন বা তরল পদার্থের মত গ্যাসের কোন নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, ক্ষেত্রফল বা আয়তন নেই। গ্যাসের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন না থাকায় এর জন্য দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে এর প্রসারণ হিসেব করতে হয়।

Gas

গ্যাসকে যে পাত্রে রাখা হবে, সে পাত্রের আয়তন নিয়ে নেয়। সমপরিমাণ গ্যাস এর চাপ ভিন্ন ভিন্ন আয়তনের পাত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রসারণ পরিমাপ করার জন্য চিত্রের মত করে চাপ সমান রাখা লাগবে।

গ্যাসকে খুব সহজেই, অল্প চাপে সংকুচিত করা যায়। তাই আমাদের জানা লাগবে গ্যাসের চাপ ও আয়তনের মধ্যকার সম্পর্ক। একে বলে আদর্শ গ্যাসের সূত্র। সূত্রটি নিম্নরূপ-

PV= nRT


এখানে, P = চাপ, V = গ্যাসের আয়তন, n = গ্যাসের পরিমাণ (মোলে মাপা), R = ধ্রুবক (8.314 J K⁻¹ mol) এবং T = তাপমাত্রা।

এখন, একটি নির্দিষ্ট T₁ তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন যদি V₁ এবং T₂ তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন V₂ হয়, তাহলে গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগ βp হচ্ছে:

βp = (V₂ – V₁)V1⁄T₂ – T₁
আমরা জানি,
PV₁ = nRT₁
PV₂ = nRT₂
কাজেই,
P(V₂ – V1) = nR(T₂ – T₁)
বামপাশে PV1 এবং ডান পাশে nRT₁ দিয়ে ভাগ করলে পাই,
V₂ – V1⁄V₁ = T₂ – T1⁄T₁
কাজেই,
(V₂ – V₁)V1⁄T₂ – T1 = 1⁄T₁
অর্থাৎ
βp = 1⁄T₁

উপরে আমরা গ্যাসের আয়তন প্রসারণ সহগ পেলাম, দেখা যাচ্ছে সেটি তাপমাত্রার বিপরীত। তার মানে, তাপমাত্রা যত কম হবে, গ্যাসের আয়তন প্রসারণ তত বেশি হবে এবং তাপমাত্রা যত বাড়ানো হবে গ্যাসের প্রসারণ তত কম হবে।

এর মধ্য দিয়েই শেষ হলো আনিসার আজকের মতো পড়া। এবার সে কিছু ভিডিও দেখে বইয়ের টপিকগুলো আরো ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছে।


তোমাদের কাছে কি গোলমেলে লাগছে? নিজেদের ধারণা আরো পরিষ্কার করতে, এই প্লে-লিস্ট টি দেখে নাও!


নিচের কুইজগুলো দিয়ে যাচাই করে নাও তোমার ধারণা!


স্মার্টবুকটি ভালো লাগলে তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না যেন।