বস্তুর উপর তাপের প্রভাব

এ মহাবিশ্বে শক্তির অনেকগুলো রূপ রয়েছে, যার মধ্যে আমাদের অতি পরিচিত একটি রূপ হচ্ছে তাপশক্তি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সবক্ষেত্রে একে আমরা অনুভব করি। তাপশক্তি নিয়ে চলো এবার একটু বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

পদার্থের অণু পরমাণুর গতির সাথে সম্পর্কিত শক্তির রূপকে তাপশক্তি বলে।

তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে অণুর কম্পন বৃদ্ধি করে পদার্থের অবস্থা পরিবর্তন করা যায়। তাপের প্রবাহ নির্ভর করে তাপমাত্রার উপর।

একটি কঠিন পদার্থের উপর তাপ প্রয়োগ করা হলে, তার অণুগুলো কাঁপতে থাকে। যদি পদার্থটি অনেক উতপ্ত হয়, তখন যদি অণুগুলোর কম্পনের কারণে আন্তঃআণবিক বল কে ছাড়িয়ে বের হয়ে যায়। তখন পদার্থের নতুন প্রাপ্ত অবস্থাকে আমরা বলি তরল। যদি তরল অবস্থায় থেকে বস্তুকে আরও উতপ্ত করা হয়, তখন অণুগুলোর কম্পন আরো বেড়ে যায় এবং এক সময় অণুগুলো আণবিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে আসে। তখন আমরা বলি, পদার্থটি বায়বীয় অবস্থায় আছে।

তাপের একক জুল (J)। এছাড়াও তাপের আরো একটি একক আছে, যাকে আমরা বলি ক্যালরি (cal)

অভ্যন্তরীণ শক্তি

আমরা জানি যে দুটি বস্তুর মধ্যে অনেক সময় তাপের আদান-প্রদান হয় অর্থাৎ তাপের সঞ্চালন হয়। কিন্তু এই তাপের সঞ্চালন কখন হয়, কেন হয় ও কতক্ষণ হয় সেটা আমাদের বেশিরভাগেরই অজানা এবং অনেক দ্বিধা রয়েছে। এবার চলো তাহলে এটা জেনে নেয়া যাক।

তাপের সঞ্চালন

তাপমাত্রার সাথে তাপের সঞ্চালনের বিষয়টি আমরা নিচের উদাহরণের সাহায্যে বুঝতে পারি:

পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম

তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য পদার্থের ধর্মের যে পরিবর্তন হয় ও যে পরিবর্তন সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করে তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়, সে সকল ধর্মকে পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম বলে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, থার্মোমিটারে পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্ম ব্যবহার করে আমরা তাপমাত্রা মাপতে পারি। এইখানে পারদ হচ্ছে তাপমাত্রিক পদার্থ আর পারদের প্রসারণ হচ্ছে তাপমাত্রিক ধর্ম।

পদার্থের তাপমাত্রিক ধর্মের ব্যবহারের আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে থার্মোকাপল। এক্ষেত্রে দুইটি ভিন্ন ধাতু ব্যবহার করে খুব সহজেই -200°C থেকে 1000°C পর্যন্ত তাপমাত্রা মাপা যায় বলে শিল্প কারখানায় থার্মোকাপলের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

তাপমাত্রা পরিমাপ

“>” বাটনে ক্লিক করে জেনে নাও তাপমাত্রা পরিমাপ সম্পর্কে
 

ভিন্ন ভিন্ন স্কেলের মধ্যে সম্পর্ক