স্থির বিদ্যুৎ

সাইয়ারাদের আজকের পদার্থবিজ্ঞান ক্লাসটি একটু অন্যরকম। ম্যাডাম আজকে ক্লাসে ঢোকার সময় সাথে করে একটি চিরুনি এবং কয়েক টুকরো কাগজ নিয়ে ঢুকছেন। আবার সাথে আরো আছে কাচের টুকরো এবং সিল্কের কাপড়। ক্লাসের সবাই একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল ম্যাডামের দিকে। ম্যাডাম তাদের বললেন, “আজকে তোমাদের সবাইকে পদার্থবিজ্ঞানের মজার একটি খেলা দেখাবো।” সবাই উদগ্রীব হয়ে দেখছে ম্যাডামের ডেস্কের দিকে।

ম্যাডাম ক্লাসের দুষ্টু ছেলে তানিমকে ডাকলেন এবং তাকে কিছুক্ষণ চুল আঁচড়ানোর নির্দেশ দিলেন। চুল আঁচড়ানো শেষে তিনি তানিমের থেকে চিরুনি নিয়ে তা ওই কাগজের টুকরোগুলোর উপর ধরলেন। এরপর সবাই দেখলো, ওই কাগজের টুকরোগুলো চিরুনির সাথে লেগে যাচ্ছে! এ যেন এক অদৃশ্য ম্যাজিক!

Image 1

অদৃশ্য ম্যাজিকটির পেছনে আসল রহস্য কী? আসল রহস্য হলো: স্থির বিদ্যুৎ

উপরের ঘটনা থেকে বোঝার চেষ্টা করো দেখি? কেন হচ্ছে এই আকর্ষণ? আকর্ষণ এর পেছনে রয়েছে চার্জ।

চার্জ

চার্জ বা আধান কিন্তু আবার পরমাণুর সাথে সম্পর্কিত। রসায়নে তোমরা জেনেছো যে, পরমাণুর কেন্দ্রে বা মাঝখানে থাকে নিউক্লিয়াস। এই নিউক্লিয়াস আবার তৈরি হয়ে থাকে প্রোটন এবং নিউট্রন দ্বারা। প্রোটনের চার্জ পজিটিভ, নিউট্রনের কোনো চার্জ নেই এর ইলেক্ট্রনের চার্জ হলো নেগেটিভ।

Charge

আবার প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যাও পরমাণুতে সমান থাকে। তাই সেগুলো কিন্তু তড়িৎ উৎপাদন করে না বা তড়িৎ ধর্ম প্রকাশ করতে পারে না। তবে যদি কোনো পদার্থতে এই প্রোটন আর ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান না হয়, তবে সেগুলো আহিত হয়।


ঘর্ষণে স্থির বিদ্যুৎ তৈরি

তানিমের দ্বারা তো ম্যাডাম আধান ও স্থির বিদ্যুৎ সম্পর্কে পুরো ক্লাসকে একটি প্রাথমিক ধারণা দিলেন ম্যাডাম। এবারে পালা ছিল ঘর্ষণ এর ফলে স্থির বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়া সম্পর্কে জানানোর। এবার ম্যাডাম ডাকলেন সাইয়ারাকে ক্লাসে সবার সামনে ডায়াসে আসার জন্য।

সাইয়ারা যাবার পরে ম্যাডাম তাকে সেই কাচের টুকরো এবং সিল্কের কাপড় ধরিয়ে দিলেন। এবং বললেন, “এই সিল্কের কাপড়টি দ্বারা কিছুক্ষণ কাচের টুকরোটি ঘষো। এরপর দেখবে কাচের টুকরো থেকে ইলেকট্রনগুলো ধীরে ধীরে সিল্কের কাপড়ে স্থানান্তরিত হবে। ইলেকট্রনগুলো সিল্কের কাপড়ে আসতে শুরু করলে কাচের টুকরোটি হবে পজিটিভ চার্জযুক্ত এবং কাপড়টি হবে নেগেটিভ চার্জযুক্ত। ব্যাপারটি মূলত ঘটেছে ইলেকট্রন আসক্তির জন্য। কাচের তুলনায় সিল্কের কাপড়ের ইলেকট্রন আসক্তি বেশি, তাই ইলেকট্রনগুলো সিল্কের দিকেই গিয়েছে।


ইলেকট্রোস্কোপ ও বৈদ্যুতিক বল

ম্যাডাম এবারে সবাইকে বললেন, “অনেক তো উদাহরণ দেখালাম তোমাদের। এবার সবাই মনোযোগ দাও, ইলেকট্রোস্কোপ এবং বৈদ্যুতিক বল সম্পর্কে জানবে।

(+) চিহ্নিত স্থানে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত


উপরের চিত্রের সাহায্যে ম্যাডাম ব্যাখ্যা করে দিলেন ইলেকট্রোস্কোপ যন্ত্রের কাজ।

সত্য মিথ্যা যাচাই করে দেখো তো কতটুকু শিখলে!


এবার বৈদ্যুতিক বল সম্পর্কে বোঝানোর জন্য ম্যাডাম, কুলম্ব নামক এক বিজ্ঞানীর সূত্রের ব্যাখা দেয়া শুরু করলেন। বিজ্ঞানী কুলম্বই প্রথম দুটি চার্জের মাঝে কতটুকু বল কাজ করে তা বের করেছিলেন। আর এই বৈদ্যুতিক বল ও তাঁর সূত্রের সাথেই সম্পর্কিত।

কুলম্বের সূত্র

তোমাদের তো আগেই বলা হয়েছে দুটি ভিন্ন ধরণের আধান পরষ্পরকে আকর্ষণ করে, দুটি একই ধরণের আধান পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। দুটি আধানের মধ্যবর্তী এই আকর্ষণ বা বিকর্ষণের বলের মান নির্ভর করে-

১. আধান দুটির পরিমাণের উপর।
২. আধান দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের উপর।
৩. আধান দুটি যে মাধ্যমে অবস্থিত তার প্রকৃতির উপর।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে জেনে নাও বিস্তারিত!

আরো বিস্তারিত জানতে চলে যাও পরবর্তী পৃষ্ঠায়