কাজ, ক্ষমতা ও শক্তি

কয়েকদিন আগেই শেষ হলো মৌ এর বার্ষিক পরীক্ষা। প্রায় এক মাসের এই লম্বা ছুটিতে কী রেখে কী করবে, তাই ভেবে পাচ্ছে না সে। অন্য বন্ধুরাও শহরের বাইরে থাকায় তাদের সাথে খেলতেও পারছে না। এবার মৌ সারাদিন বাসায় বসে, হয় ম্যাগাজিন পড়ছে নতুবা ইউটিউবে কার্টুন দেখে কাটাচ্ছে। এমন অবস্থা কয়েকদিন চলার পর তার মা এসে বলল, “তোর কি কোনো কাজ নেই? দিনভর শুধু ম্যাগাজিন পড়া আর কার্টুন দেখায় কী হচ্ছে? এসব না করে তোর বুকশেলফটা গোছালেও তো পারিস!” মৌ অবাক হয়ে ভাবে, এই ম্যাগাজিন পড়া এবং কার্টুন দেখাগুলো কোনো কাজ না কীভাবে!

work

তোমাদের মনেও কি মৌ এর মতো এমন চিন্তার উদ্ভব হয়েছে? অবাক করা হলেও সত্যি, যে পদার্থবিজ্ঞানে কাজ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মৌ এর ম্যাগাজিন পড়া এবং কার্টুন দেখা কোনো কাজ নয়। কারণ এই দুই ক্ষেত্রে সে কোনো বল প্রয়োগ করেনি, ফলে কোনো বস্তুর সরণও ঘটেনি।

ধরো, মৌ তার মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী তার বুক শেলফ গোছানো শুরু করলো। সে তার শক্তি ব্যবহার করে বল প্রয়োগ করলো এবং তার সবগুলো সায়েন্স ফিকশন বই ঠেলে পেছনের দিকে সরালো এবং সামনে তার নতুন কেনা অ্যাডভেঞ্চার বইগুলো রাখলো। অর্থাৎ বইগুলোর সরণ ঘটেছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কাজ সম্পর্কে তো জানলাম, এবার চলো এর গাণিতিক সমীকরণ সম্পর্কে জেনে নেই।


শক্তি

মৌ এর শক্তি ব্যবহার করে কাজ করার কথা মনে আছে? এই শক্তি হলো মূলত কাজ করার সামর্থ্য।

যখন ধনাত্নক কাজ হয়, তখন কোনো বস্তু মূলত শক্তি লাভ করে। আবার, যখন ঋণাত্মক কাজ হয়, তখন বস্তুটি থেকে মূলত শক্তি সরিয়ে নেয়া হয়।

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

এখন চলো, বিভবশক্তির সূত্র জেনে নেওয়া যাক-

পাশে swipe করে দেখে নাও বিস্তারিত


শক্তির বিভিন্ন উৎস, নিত্যতা ও রূপান্তর

ড্রপডাউনগুলোতে ক্লিক করে দেখে নাও বিস্তারিত

ক্ষমতা

মৌ যখন দিনরাত ম্যাগাজিন পড়ে কাটাতো, তখন সে সবগুলো ম্যাগাজিনে একটি খবর বারবারই ঘুরে ফিরে দেখে। সেটি হলো “বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ক্ষমতায়ন।” এই ক্ষমতার ব্যাপারটি অন্য সব যায়গায় যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন, পদার্থবিজ্ঞানে কিন্তু এর অর্থ আলাদা। পদার্থবিজ্ঞানে, কাজ করার হারকেই ক্ষমতা বলে।

মৌ তার বান্ধবীদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলতে যাবে বলে সে স্টোররুমের সিড়ি বেয়ে তার র‍্যাকেট ও কর্ক নামাতে গেছে। ধরি, তার র‍্যাকেট নামাতে t সময় লেগেছে এবং সে W পরিমাণ কাজ সম্পন্ন করেছে।

তাহলে তার ক্ষমতা,

P = \(\frac{W}{T}\)

ক্ষমতার একক হচ্ছে ওয়াট: W
এর মাত্রা হচ্ছে: ML²T⁻³

কর্মদক্ষতা

মনে করো, কোন ইঞ্জিন বা সিস্টেমে তুমি শক্তি দিচ্ছ এবং তা কাজ সম্পন্ন করছে। দেখা যায়, কোন ইঞ্জিন বা সিস্টেমে যে পরিমাণ শক্তি দেয়া হয় তার পুরোটাকে সে ইঞ্জিন বা সিস্টেম কাজে রূপান্তর করতে পারে না। এক্ষেত্রে কিছু শক্তি অপচয় হয়। তাই ইঞ্জিন বা সিস্টেম কতটা ভালোভাবে কাজ করছে তা বুঝতে আমরা কর্মদক্ষতা বের করি।

ঠিক যেমন, মৌ যে এতো এতো ম্যাগাজিন পড়েছে, সেগুলোতে আদতে কী লেখা আছে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে হয়তো এর ৫০% মনে করতে পারবে না। বাকি ৫০% মনে করে বলতে পারবে।

এই ব্যাপারটিকে শতকরা হিসেবে কিন্তু প্রকাশ করা যায়। যেমন-

দক্ষতা


একটি উদাহরণের মাধ্যমে আরো পরিষ্কার ধারণা পাবে:

Img6


মৌ এর মতো নিজেদের ছুটিতে যদি productive কোনো কাজ না পাও, তাহলে এই স্মার্টবুকটি পড়া শেষে নিচের প্লে লিস্ট টি কিন্তু অবশ্যই দেখে নিও:

চলো শেষবারের মত নিজেকে ঝালাই করে নেই!


কাজ, ক্ষমতা শক্তির এই স্মার্টবুকটি তোমার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলো না কিন্তু!