10 Minute School
Log in

ABO ব্লাড গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর-এর কারণে সৃষ্ট সমস্যা

ABO ব্লাড গ্রুপ ও Rh ফ্যাক্টর-এর কারণে সৃষ্ট সমস্যা (ABO Blood Group and Problems due to Rh Factor)

ABO ব্লাড গ্রুপ (ABO Blood Group)

রক্তকণিকায় কতকগুলো অ্যান্টিজেন (antigen)-এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে বিজ্ঞানী ল্যান্ডস্টেইনার মানুষের রক্তের যে শ্রেণিবিন্যাস করেন, তা ABO ব্লাড গ্রুপ বা সংক্ষেপে ব্লাড গ্রুপ (blood group) নামে পরিচিত।

মানুষের রক্তে AB-এই দুরকম অ্যান্টিজেন থাকতে পারে। অ্যান্টিজেন AB-র সাথে রক্তরসে কতকগুলো স্বতঃস্ফূর্ত অ্যান্টিবডি রয়েছে। এগুলোকে বলে a (বা anti-A) এবং b (anti-B)। এভাবে অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে সমগ্র মানবজাতির রক্তকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা যায়, যথা-A, B, ABO

অ্যান্টিজেন (Antigen) ও অ্যান্টিবডির (Antibody) উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের চারটি গ্রুপ

blood cells

Rh ফ্যাক্টর (Rh Factor)

মানুষের লোহিত কণিকার ঝিল্লিতে রেসাস বানরের লোহিত কণিকার ঝিল্লির মতো এক প্রকার অ্যান্টিজেন রয়েছে। রেসাস বানরের নাম অনুসারে ঐ অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর (Rhess factor) বা সংক্ষেপে Rh factor বলে।

লোহিত রক্তকণিকার প্লাজমামেমব্রেনে Rh ফ্যাক্টরের উপস্থিতি-অনুপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণিবিন্যাসকে Rh ব্লাড গ্রুপ বলে। Rh ফ্যাক্টরবিশিষ্ট রক্তকে \mathbf{R h}^{+} (Rh পজিটিভ) এবং Rh ফ্যাক্টরবিহীন রক্তকে \mathbf{R h}^{-} (Rh নেগেটিভ) রক্ত বলে।

বিজ্ঞানী Fisher মত প্রকাশ করেন যে, Rh ফ্যাক্টর মোট ৬টি সাধারণ অ্যান্টিজেনের সমষ্টি বিশেষ। এদের জোড়ায় ভাগ করা যায়, যেমন-C, c; D, d; E, e এদের মধ্যে C, D, E হচ্ছে মেন্ডলীয় প্রকট এবং c, d, e হচ্ছে মেন্ডেলীয় প্রচ্ছন্ন। মানুষের লোহিত কণিকায় এক সংগে ৩টি অ্যান্টিজেন থাকে কিন্তু প্রতি জোড়ার দুটি উপাদান কখনও একসাথে থাকে না, যেমন-CDE, CDe, cDE এমন সন্নিবেশ সম্ভৰ, CDd অসম্ভব। মেন্ডেলীয় প্রকট অ্যান্টিজেন (C, D, E) যে রক্তে থাকে তাকে \mathbf{R h}^{+}রক্ত বলে। যে রক্তে মেন্ডেলীয় প্রচ্ছন্ন অ্যান্টিজেন (c, d, e) থাকে তাকে \mathbf{R h}^{-} রক্ত বলে।

Rh ফ্যাক্টরের কারণে সৃষ্ট সমস্যা (Problems due to Rh Factor) 

১. রক্ত সঞ্চালনে জটিলতা (Complexity in Blood Transfusion) : Rh রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তির রক্তে \mathbf{R h}^{+} বিশিষ্ট রক্ত দিলে প্রথমবার গ্রহীতার দেহে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না, কিন্তু গ্রহীতার রক্তরসে ক্রমশ \mathbf{R h}^{+}অ্যান্টিজেনের বিপরীত অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হবে। এই অ্যান্টিবডিকে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর বলে।

গ্রহীতা যদি দ্বিতীয়বার দাতার \mathbf{R h}^{+} রক্ত গ্রহণ করে তা হলে গ্রহীতার রক্তরসের অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টরের প্রভাবে দাতার লোহিত রক্তকণিকা জমাট বেঁধে পিন্ডে পরিণত হবে। তবে একবার সঞ্চারণের পর যদি গ্রহীতা আর রক্ত গ্রহণ না করে তা হলে ধীরে ধীরে তার রক্তে উৎপন্ন সমস্ত অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর নষ্ট হয়ে যায় এবং গ্রহীতা স্বাভাবিক রক্ত ফিরে পায়।

২. গর্ভধারণজনিত জটিলতা (Complexity in Pregnancy) : সন্তানসম্ভবা মহিলাদের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর খুব গুরুত্বপূর্ণ। একজন\mathbf{R h}^{-}(Rh নেগেটিভ) মহিলার সঙ্গে \mathbf{R h}^{+}(Rh পজিটিভ) পুরুষের বিয়ে হলে তাদের প্রথম সন্তান হবে \mathbf{R h}^{+}, কারণ\mathbf{R h}^{+} একটি প্রকট বিশিষ্ট। ভ্ৰণ অবস্থায় সন্তানের \mathbf{R h}^{+} ফ্যাক্টরযুক্ত লোহিত কণিকা অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্তে এসে পৌছাৰে, ফলে মায়ের রক্ত Rh হওয়ায় তার রক্তরসে অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর (অ্যান্টিবডি) উৎপন্ন হবে।

Pregnancy Problem for Rh

 

চিত্র : Rh ফ্যাক্টরের কারণে সৃষ্ট সমস্যা

অ্যান্টি Rh ফ্যাক্টর মায়ের রক্ত থেকে অমরার মাধ্যমে ভ্রুণের রক্তে প্রবেশ করলে ভ্রুণের লোহিত কণিকাকে ধ্বংস করে, ভ্রুণও বিনষ্ট হয় এবং গর্ভপাত ঘটে। এ অবস্থায় শিশু জীবিত থাকলেও তার দেহে প্রচন্ড রক্তাল্পতা এবং জন্মের পর জন্ডিস রোগ দেখা দেয়। এ অবস্থাকে এরিথ্রোরাস্টোসিস ফিটালিস (erythroblastosis foetalis) বলে।