10 Minute School
Log in

নিষেক (Fertilization) এবং গর্ভধারণ বা ইমপ্ল্যান্টেশন (Implantation) 

নিষেক (Fertilization)

মানবদেহে যে নিষেক ঘটে তা প্রকৃতপক্ষে সেকেন্ডারি উওসাইট ও পরিণত শুক্রাণুর নিউক্লিয়াসের একীভবন। এ প্রক্রিয়ার ধাপগুলো নিমরূপ:

1.স্থলিত শুক্রাণুর অ্যাক্রোসোম থেকে হায়ালিউরোনিডেজ (hyaluronidase) নামক হাইড্রোলাইটিক এনজাইম ক্ষরিত হয়। ডিম্বাণুর চারদিকে অবস্থিত ফলিকল কোষগুলো যে সব পদার্থের সাহায্যে পরস্পর যুক্ত থাকে সে সব পদার্থকে এ এনজাইম বিগলিত করে শুক্রাণুর গমন পথ সৃষ্টির সূচনা করে করে।

2. গমন পথ ধরে শুক্রাণুর লেজের সাহায্যে চালিত হয়ে ডিম্বাণুর জোনা পেলুসিডার বহির্দেশে পৌঁছে (সেকেন্ডারি উওসাইটের চতুর্দিক ঘিরে অবস্থিত পুরু স্তরকে জোনা পেলুসিডা বলে)। এ স্তরে অবস্থিত বিশেষ সংগ্রাহক প্রোটিনে শুক্রাণুর মস্তক-ঝিল্লির সংগ্রাহকগুলো বন্ধনের সৃষ্টি করে।

3. বন্ধনের ফলে উদ্দীপ্ত হয়ে শুক্রাণু-মস্তক আরেক ধরনের এনজাইম ক্ষরণ করে। এ এনজাইম জোনা পেলুসিডার অংশকে হজম করে একটি পথের সৃষ্টি করে। এ পথ ধরে শুক্রাণু ডিম্বাণু-ঝিল্লির বহির্তলে এসে পৌছায়। এর মস্তকটি ডিম্বাণুর ভিলাই-সমৃদ্ধ প্লাজমামেমব্রেনের সাথে একীভূত হয় এবং ডিম্বাণুর সাইপ্লোজমে প্রবেশ করে।

Fertilization

4. শুক্রাণু-মস্তক ডিম্বাণুর অভ্যন্তরে প্রবেশের সাথে সাথে ডিম্বাণুর বহির্দেশে অবস্থিত কর্টিকাল দানা (cortical granules) নামে পরিচিত লাইসোজোমগুলো এনজাইম ক্ষরণ করে। এনজাইমের প্রভাবে জোনা পেলুসিডা পুরু ও শক্ত হয়ে নিষেক ঝিল্লি (fertilization membrance) নির্মাণ করে। ফলে আর কোনো শুক্রাণু নিষেকে অংশ নিতে পারে না। তাছাড়া, এনজাইমের প্রভাবে জোনা পেলুসিডা শুক্রাণু-গ্রাহক প্রোটিনগুলোও নষ্ট হয়ে যায়, ফলে কোনো শুক্রাণুই আর জোনা পেলুসিডায় যুক্ত হতে পারে না।

5. শুক্রাণু প্রবেশের ফলে সেকেন্ডারি উওসাইটটি উদ্দীপ্ত হয়ে দ্বিতীয় মিয়োটিক বিভাজন (মিয়োসিস-২) ঘটিয়ে পরিণত ডিম্বাণু ও দ্বিতীয় পোলার বডি সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় পোলার বডি দ্রত ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং শুক্রাণু লেজ ডিম্বাণুর সাইটোপ্লাজমে মিশে যায়। শুক্রাণু-নিউক্লিয়াসে তখন ক্রোমাটিনগুলো ঢিলে-ঢালা হয়ে পড়ে, ফলে নিউক্লিয়াসটি স্ফীত হয়। এ পর্যায়ের শুক্রাণু ও ডিম্বাণু নিউক্লিয়াসকে যথাক্রমে পুরুষ ও স্ত্রী প্রোনিউক্লিয়াই (male and female pronuclei) বলে।

6. পুরুষ প্রোনিউক্লিয়াসটি ডিম্বাণুর কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হয়ে স্ত্রী প্রোনিউক্লিয়াসের সাথে একীভূত হলে ডিম্বাণুটি ডিপ্লয়েড জাইগোট (n + n = 2n)-এ পরিণত হয়।

 

নিষেকের গুরুত্ব বা তাৎপর্য (Importance of Fertilization)

যৌন জননকারী প্রাণিদের জন্য নিষেক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিচে নিষেকের কয়েকটি তাৎপর্য উল্লেখ করা হলো- 

১. নিষেক পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যকে সমন্বিত করে। 

২. নিষেকের ফলে জাইগোটে জিনের নতুন সমন্বয় ঘটে এবং এতে জীবে প্রকরণের সূচনা হয়। 

৩. নিষেকের ফলে ডিম্বাণু পরবর্তী পর্যায়ের বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত হয়। 

৪. নিষেক জীবের ডিপ্লয়েড সংখ্যাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে। 

৫. নিষেক ডিম্বাণুর বিপাক হার ও প্রোটিন সংশ্লেষণ হার বৃদ্ধি করে। 

৬. নিষেকের মাধ্যমে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারিত হয়। 

৭. নিষেক জীবের বংশ রক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। 

 

গর্ভধারণ বা ইমপ্ল্যান্টেশন (Implantation) 

নিষেকের পর ৬ থেকে ৯ দিনের মধ্যে যে প্রক্রিয়ায় জাইগোট ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে (স্তন্যপায়ী প্রাণির জরায়ুর অন্তর্গাত্রে অবস্থিত রক্তবাহিকা ও গ্রন্থিসমৃদ্ধ স্থূল মিউকাস ঝিল্লি) সংস্থাপিত হয় তাকে ইমপ্ল্যান্টেশন বলে। ডিম্বাণু ডিম্বনালির (ফেলোপিয়ান নালি) উর্ধ্বপ্রান্তে নিষিক্ত হয়ে জাইগোটে পরিণত হয়। এটি দ্রুত বিভক্ত হয়ে মরুলা (morula) নামক একটি নিরেট কোষপুঞ্জের সৃষ্টি করে এবং ডিম্বনালির সিলীয় আন্দোলন ও ক্রমসংকোচনের ফলে নিম্নগামী হয়। জাইগোটের পর্যায়ক্রমিক মাইটোসিস বিভাজনকে ক্লিভেজ (cleavage) বলে। নিরেট কোষপুঞ্জটি ডিম্বনালি থেকে সংগৃহীত তরলে পূর্ণ অন্তঃস্থ গহবর (ব্লাস্টোসিল) সমন্বিত ও এককোষস্তরীয় ব্লাস্টোসিস্ট (blastocyst)-এ পরিণত হয়। ব্লাস্টোসিস্টে প্রায় ১০০টির মতো কোষ থাকে। প্রতিটি কোষকে ব্লাস্টোমিয়ার (blastomere) বলে। ব্লাস্টোমিয়ারের স্তরকে বলে ট্রফোব্লাস্ট (trophoblast)। ৪-৫ দিনের ভিতর ব্লাস্টোসিস্ট জরায়ুতে এসে পৌঁছালে দুদিনের মধ্যে এর জোনা পেলুসিডা আবরণ অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন ট্রফোব্লাস্ট কোষ ও জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম (ভিতরের প্রাচীর) কোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্লাস্টোসিস্ট এন্ডোমেট্রিয়ামের যেখানে প্রোথিত হবে সেখানকার আবরণী টিস্যু ট্রফোব্লাস্ট থেকে নিঃসৃত এনজাইমের প্রভাবে বিগলিত হয়। তখন ব্লাস্টোসিস্টটি সেখানে যুক্ত হয়। এভাবে নিষেকের ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম দিনের মধ্যে নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোটটি ব্লাস্টোসিস্ট অবস্থায় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে আবদ্ধ হয়। জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামে ব্লাস্টোসিস্টের প্রোথিত হওয়ার এ প্রক্রিয়ার নামই ইমপ্ল্যান্টেশন। 

 

অমরা বা প্লাসেন্টা (Placenta) 

ভ্রুণীয় ও মাতৃটিস্যুতে গঠিত যে চাকতির মতো গঠন ফিটাস ও মাতৃদেহে বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে অমরা বা প্লাসেন্টা বলে। এটি কোরিওন-এর একটি অংশ যার মাধ্যমে ফিটাস ও মায়ের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয়। নিষেকের ১২ সপ্তাহ পরে প্লাসেন্টা গঠিত হয়।

Implantation

Steps in Implantation

অমরায় ফিটাসের অংশ হচ্ছে কোরিওনিক কোষ (chorionic cell)। কোষগুলো কোরিওনিক ভিলাই (chorionic villi) সৃষ্টি করে। আম্বিলিকাল ধমনি ও শিরা নামক দুটি রক্ত বাহিকা এসব ভিলাইয়ে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে কৈশিক জালিকা নির্মাণ করে। প্রধান রক্তবাহিকা দুটি নাভীরজ্জু বা আম্বিলিকাল কর্ড (umbilical cord) নামক ৪০-৫০ সেমি. লম্বা একটি শক্ত গড়নের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করে। অ্যামনিওন ও কোরিওন উদ্ভূত কোষে কর্ডটি বেষ্টিত থাকে।

অমরায় মাতৃদেহের অংশ হচ্ছে এন্ডোমেট্রিয়ামের প্রবর্ধনসমূহ। এসব প্রবর্ধন কোরিওনিক ভিলাইয়ের মধ্যবর্তী অংশে রয়েছে আর্টারিওল (সূক্ষ্ম ধমনি) থেকে আগত ধমনি-রক্তে পূর্ণ স্থান। এসব স্থান দিয়ে জরায়ু-প্রাচীরে রক্ত আর্টারিওল থেকে ভেনিউলে (সূক্ষ্ম শিরা) প্রবাহিত হয়।

 

অমরার মাধ্যমে ফিটাস ও মাতৃদেহের মধ্যে যে সকল বস্তুর আদান-প্রদান ঘটে তা নিম্নরূপ –

মাতা থেকে ফিটাস ফিটাস থেকে মাতা
অক্সিজেন, গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, লিপিড, ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারল, ভিটামিন, আয়ন (Na+, k+, Cl, Ca2+, Fe2+), অ্যালকোহল, নিকোটিন এবং অনেক ঔষধ, ভাইরাস, অ্যান্টিবডি। কার্বন ডাইঅক্সাইড, ইউরিয়া, অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ।

 

অমরার কাজ (Functons of Placenta) 

১. সংস্থাপন: অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ু-প্রাচীরে সংস্থাপিত হয় ও সুরক্ষিত থাকে।

২. পুষ্টি: অমরা মায়ের রক্তস্রোত থেকে ভ্রূণের দেহে পুষ্টিদ্রব্য (মনোস্যাকারাইড, ডাইস্যাকারাইড, প্রোটিন ও ছোট ছোট লিপিড অণু) সরবরাহ করে। 

৩. গ্যাসীয় বিনিময়: অমরা মাতৃদেহ ও ভ্রূণের মধ্যে গ্যাসীয় বিনিময় ঘটিয়ে শ্বসনে সাহায্য করে।

৪. রেচন: ভ্রূণের বিপাকীয় কাজে উদ্ভূত নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য পদার্থ অমরার মধ্য দিয়ে ব্যাপিত হয়ে মায়ের দেহে প্রবেশ করে।  

৫. অনাক্রম্যতা: মাতৃদেহের রক্তে কয়েকটি রোগের বিরুদ্ধে যেমন ডিপথেরিয়া, হাম, বসন্ত, স্কারলেট জ্বর প্রভৃতির জন্য উৎপন্ন এন্টিবডি মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণদেহে প্রবেশ করে ঐসব রোগের বিরুদ্ধে ভ্রূণকে অনাক্রম্য করে তোলে।

৬. জীবাণু বহন: কয়েক ধরনের ভাইরাসকে আমরা মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণে প্রবেশ করতে দিয়ে ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। [গর্ভকালীন সময়ে মা যদি সিফিলিস, হাম, জলবসন্ত, গুটিবসন্ত, রুবেলা এসব রোগের ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে ঐ ভাইরাস ভ্রূণদেহে প্রবেশ করে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি বা অঙ্গহানি ঘটাতে পারে।] 

৭. ওষুধ সেবন: চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার ওষুধ মাতৃদেহ থেকে অমরার মাধ্যমে ব্যাপিত হয়ে ভ্রূণে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। 

৮. সঞ্চয়: অমরায় স্নেহ, গ্লাইকোজেন ও লৌহ সঞ্চিত থাকে। 

৯. হরমোন নিঃসরণ: অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে অমরা চার ধরনের হরমোন ক্ষরণ করে (এস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন, হিউম্যান প্লাসেন্টাল ল্যাকটোজেন ও হিউম্যান কোরিওনিক গোনাডোট্রপিন) জরায়ু-প্রাচীর ও গ্রন্থির গড়নে ও কাজে এবং প্রসব ঝামেলামুক্ত করণে সাহায্য করে।

 

ভ্রূণ আবরণী (Embryonic membrane)

প্রত্যেক প্রজাতিতে ভ্রূণের সহজ-স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ পরিস্ফুটনের ব্যবস্থা রয়েছে। মানব ভ্রূণের ক্ষেত্রে প্রকৃতি সবচেয়ে বেশি যত্নবান হয়ে ভ্রূণের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটানোর যাবতীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছে। পুষ্টি সরবরাহ, গ্যাসীয় বিনিময়, রেচন পদার্থ ত্যাগ ইত্যাদি কোনো প্রক্রিয়াই যেন বাধাগ্রস্ত না হয় তার জন্য ভ্রূণের চারদিকে সৃষ্টি হয়েছে কতকগুলো ঝিল্লি। এসব ঝিল্লির উৎপত্তি সর্বপ্রথম সরিসৃপে ঘটলেও চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছে স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে।

পরিস্ফুটনকালে মানবভ্রূণ চারটি ঝিল্লিতে বেষ্টিত থাকে। এগুলোকে বহিঃভ্রুণীয় আবরণী (extra embryonic membrane) নামে অভিহিত করা হয়। কারণ আবরণীগুলো ভ্রূণের আনুষঙ্গিক হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ভ্রূণদেহের চতুর্দিক ঘিরে রাখে এবং ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বর্জিত হয়। প্রাণিজগতের সরিসৃপ, পাখি ও স্তন্যপায়ী গোষ্ঠীতে যে ভ্রূণসংশ্লিষ্ট আবরণী রয়েছে প্রকৃতপক্ষে তা বহিঃভ্রুণীয় আবরণী। 

মানবভ্রণে চারটি বহিঃভ্রূণীয় আবরণী রয়েছে যথা- ক. অ্যামনিওন, খ. অ্যালানটয়েস, গ. কোরিওন ও ঘ. কুসুম থলি। নিচে এদের বর্ণনা দেয়া হলো।

 

ক. অ্যামনিওন (Amnion): ভ্রূণের এক্টোডার্ম ও মেসোডার্মের অংশগ্রহণে গঠিত যে থলি আকৃতির আবরণ জলীয় পদার্থে পূর্ণ থেকে ভ্রূণকে ঘিরে রাখে, তাকে অ্যামনিওন বলে। এতে কোনোরক্তবাহিকা থাকে না। 

কাজ: (i) ভ্রূণকে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।

      (ii) ঝাঁকুনিজনিত আঘাত থেকে ভ্রূণকে রক্ষা করে।

      (iii) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুষ্ঠু বিকাশে সাহায্য করে। 

      (iv) তরলে পূর্ণ হওয়ায় বাইরের চাপ ভ্রূণদেহে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 

 

খ. অ্যালানটয়েস (Allantois): ভ্রুণীয় অস্ত্রের পশ্চাৎ অংশ মেসোডার্ম ও এন্ডোডার্মে গঠিত থলির মতো যে উপবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়ে কোরিওনের নিচে বিন্যস্ত হয়, তাকে অ্যালানটয়েস বলে। এতে রক্তবাহিকা ও জালিকা থাকে। অ্যালানটয়েস বাইরের দিকে বর্ধিত ও কোরিওনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রক্তবাহিকা-সমৃদ্ধ অ্যালানটো-কোরিওন (allanto-chorion) সৃষ্টি করে। 

কাজ: (i) ভ্রূণর শ্বসনে সাহায্য করে।

      (ii) ভ্রূণের রেচনে সাহায্য করে।

      (iii) অ্যালানটো-কোরিওন অমরা গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। 

ভ্রূণ আবরণী (Embryonic membrane)

গ. কোরিওন (Chorion): ভ্রূণের সর্ববহিঃস্থ আবরণ যা এক্টোডার্ম ও মেসোডার্মে গঠিত হয়, তাকে কোরিওন বলে।

কাজ: (i) অ্যালানটয়েসের সঙ্গে মিলিতভাবে শ্বসনে ও পুষ্টি সরবরাহে সাহায্য করে।

(ii) অমরা গঠনে অংশগ্রহণ করে।

 

ঘ. কুসুম থলি (Yolk sac): ভ্রূণের মধ্যান্ত্রের সংগে যুক্ত এবং এন্ডোডার্ম ও মেসোডার্মে গঠিত অপেক্ষাকৃত ছোট থলি আকৃতির তরলে পূর্ণ ঝিল্লিকে কুসুম থলি বলে। মানবভ্রূণের পুষ্টি কুসুম নির্ভর না হলেও সরিসৃপ, পাখি প্রভৃতির প্রচুর কুসুমযুক্ত ডিমে ভ্রণের পরিস্ফুটনের সময় যে ধরনের কুসুম থলি সৃষ্টি হয়, মানবভ্রুণেও তেমনটি হয়।

কাজ: কুসুম থলি স্টেম কোষ (stem cell)-এর উৎস হিসেবে কাজ করে। এসব কোষ থেকে রক্তকণিকা ও লিম্ফয়েড কোষ উৎপন্ন হয়। স্টেম কোষগুলো পরবর্তীতে বর্ধনশীল ভ্রুণে প্রবেশ করে। তাই কুসুম থলি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝিল্লি।