10 Minute School
Log in

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বহুকাল পুরনো, ঐশ্বর্যশালী একটি ইতিহাস।যুগে যুগে বহু বাঙালি সাহিত্যিকের হাত ধরে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্য (Bengali literature) ।বাংলা সাহিত্যের এই ইতিহাসকে তিনটি সময়কালের প্রেক্ষাপটে বিভক্ত করে আলোচনা করা হল।

প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) -(Ancient period of Bengali Literature)

  • বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাপদ। একে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতিও বলা হয়ে থাকে।
  • চর্যাপদ মূলত গানের সংকলন। এটি রচনা করেছেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
  • চর্যাপদে ২৩ জন, মতান্তরে ২৪ জন কবির পদ পাওয়া গেছে। পদের সংখ্যা মোট ৫০টি, মতান্তরে ৫১টি
  • চর্যার পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত। 
  • চর্যাপদ আবিষ্কার করেছেন পণ্ডিত মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
  • তিনি নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
  • ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
  • আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
  • চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লুইপার লেখা।

অন্ধকার যুগ (১২০১ – ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ) ( Dark Period of Bengali Literature)

  • তুর্কি আক্রমণে এ সময় বঙ্গীয় সমাজ ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ায় মানুষ প্রাক্তন পদ্ধতিতে সাহিত্যকর্মে আত্মনিয়োগ করতে ব্যর্থ হয়।
  • এ সময়ে রচিত যে সাহিত্যকর্মের সন্ধান পাওয়া যায় (যেমন: শূন্যপুরাণ, সেক শুভোদয়া) তা মূলত সংস্কৃত।
  • শূন্যপুরাণ এর রচয়িতা রামাই পণ্ডিত। 

মধ্যযুগ (Medieval Period of Bengali Literature)

  • মধ্যযুগের সাহিত্যধারা বিভক্ত ৩ ভাগে। যথা: প্রাক-চৈতন্যযুগ, চৈতন্যযুগ ও চৈতন্য পরবর্তী যুগ।
  • মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন-এর কবি বড়ু চণ্ডীদাস।
  • শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

শ্রীচৈতন্যদেব ও বৈষ্ণব পদাবলি

  • শ্রীচৈতন্যদেবের জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ, নবদ্বীপ; মৃত্যু ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ, পুরী।
  • শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনী সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
  • বাংলায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ চৈতন্য ভাগবত।
  • ১৫০০-১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
  • বৈষ্ণব পদাবলির পর্যায়গুলি হল- পূর্বরাগ, অভিসার, মিলন, মাধুর, ভাবসম্মিলন, আক্ষেপানুরাগ, নিবেদন, প্রার্থনা প্রভৃতি।
  • বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বাঙালি কবি জয়দেব।

মঙ্গলকাব্য

  • মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি – মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, অন্নদামঙ্গল।
  • মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
  • মঙ্গলকাব্যের নায়ক-নায়িকারা সবাই শাপভ্রষ্ট দেবতা। শাপান্তে স্বর্গে ফিরে যান।
  • চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারায় কবি দ্বিজমাধবকে স্বভাবকবি বলা হয়।
  • চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি হলেন কবি মানিক দত্ত।
  • মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি হলেন কবি কানা হরি দত্ত।
  • অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়।

মৈমনসিংহ-গীতিকা

  • ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে ও স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
  • মৈমনসিংহ-গীতিকা বিশ্বে ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
  • ড. দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।

আধুনিক যুগ (১৮০১ -বর্তমান) ( Modern Period of Bengali Literature)

  • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
  • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসটি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।
  • বাংলা ছোটগল্পের জনক বলা হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
  • ১৯৪০ এর ৭ আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ডি.লিট. উপাধি প্রদান করে।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।
  • নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’।
  • আরজ আলী মাতুব্বর লৌকিক দার্শনিক হিসেবে খ্যাত।
  • ‘মুক্তবুদ্ধির চির সজাগ প্রহরী’ নামে আখ্যায়িত হন সাহিত্যিক আবুল ফজল।
  • রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়।
  • বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক ‘কৃষ্ণকুমারী’। মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনা করেন।